৪ এপ্রিল ২০২২


গোয়াইনঘাটে উজানের পানিতে ডুবছে হাওরের ফসল

শেয়ার করুন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : গোয়াইনঘাট উপজেলার কর্মসংস্থানহীন মানুষের শেষ সম্বল বোরো ফসল অকাল বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার হাওর এলাকার আধা-পাকা ও কাঁচা বোরো ফসল পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়ছে বেশ কয়েকটি ফসল রক্ষা বাঁধ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মসজিদ-মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে কৃষকদের বিভিন্ন বিলের মাটি ভরাট করে বাঁধ রক্ষায় ডাকা হচ্ছে। এ অবস্থায় ফসল রক্ষা করতে ও বাঁধ বাঁচাতে কোদাল হাতে টিন-কাঠ বাঁশ নিয়ে ছুটছেন কৃষকরা।

উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে উপজেলার পূর্ব জাফলং পশ্চিম জাফলং রুস্তমপুর তোয়াকুল ও ডৌবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার হাওরাঞ্চলের বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানির চাপে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বোরো ফসল। চোখের সামনে ফসল হারোনোর শঙ্কায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে কৃষকদের। কৃষিণীরাও দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। স্থানীয় কৃষকরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

জাকির হোসেন জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গোয়াইনঘাটে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। তলিয়ে গেছে কৃষকের রূপায়িত কয়েকশ’ হেক্টর জমির বোরো ধান। আবার কোথাও রাস্তাঘাট ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের আসামপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় প্রবল বন্যার স্রোতে ভেঙ্গে গেছে রাস্তা। নিম্নাঞ্চলের অনেক জায়গায় ঘরবাড়ি ও ডুবেছে। যাতায়াতে বেড়েছে মানুষের ভোগান্তি।

করিম মাহমুদ লিমন জানান, অকাল বন্যায় নাকাল গোয়াইনঘাটবাসী। অপ্রত্যাশিত আগাম বন্যায় বোরো ফসলের পাশাপাশি রাস্তাঘাট অনেকের ঘরবাড়ি পানির নিচে। ভাসিয়ে নিয়ে গেছে গরু-বাছুর আসবাবপত্র সহ অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। তিনি আরো জানান উপজেলার আমির মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় হাজী সোহরাব আলী উচ্চ বিদ্যালয় সহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠে গেছে।

পরগানা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, উনাইর হাওর রাস্তায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। রাস্তা নির্মাণ কাজের জন্য যে বাইপাস রাস্তা করা হয়েছিল তা পানিতে ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। অকাল বন্যার দকল সইতে উপজেলায় বসবাসকারী মানুষের অনেক ভোগান্তি ও বেগ পেতে হবে।

রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সিহাব বলেন, বন্যা পরিস্থিতির কথা কি বলব বলার ভাষা নেই। কৃষকদের বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অকাল বন্যায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে উপজেলার সাধারণ কৃষক। ফলস ঘরে তোলার মাত্র ১০-১২ দিন আগে এমন দুর্যোগে হতবিহল অবস্থায় আছে কৃষকরা।

কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, ফসল ঘরে তোলার মাত্র দিন দশেক আগে আমার ফসল তলিয়ে যাবে এমন চিন্তাও করতে পারিনি। রাতে যখন খবর পাই পানি বাড়ছে ভোর সকালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সাথে দশ বছরের কিশোর তাহমিদসহ আধাপাকা ধান কাটা শুরু করেছি। জীবিকার একমাত্র উৎস এ ফসল চোখের সামনে এখন পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে দেখে ধৈর্য ধরতে পারছি না।

তিনি বলেন, আমাদের উপার্জনের একমাত্র উপায় এ ফসল। ব্যাংক ঋণ নিয়ে এবার আবাদ করেছি। ফসল তোলার মাত্র কযেকদিন সময় তাও চলে যাচ্ছে পানির নিচে, কথাগুলো কান্না জড়িত কণ্ঠে বলে ভেঙে পড়েন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ জানান, ডুবে যাওয়া ধানের জমি ও এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে কাজ করছি। পরিদর্শন শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারবো। তবে তিনি জানান উপজেলার পূর্ব জাফলং, পশ্চিম জাফলং, রুস্তমপুর ও ডৌবাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বোরো ফসলের জমি বর্তমানে পানির নিচে আছে।

শেয়ার করুন