৪ এপ্রিল ২০২২
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : আজ ৪ এপ্রিল ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস। মুক্তিযুদ্ধের সূবর্ণজয়ন্তী চললেও ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থানটির আশানুরূপ কোন উন্নতি হয়নি। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা যুগ যুগ ধরে দাবি করলেও দাবি পূরণে কোন অগ্রগতি হয়নি।
মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে তেলিয়াপাড়াতে মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর ও পর্যটকদের বিভিন্ন সুবিধা রেখে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য দাবি করা হয়েছিল। মন্ত্রী, এমপিসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে তেলিয়াপাড়ায় বৈঠক করে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক বাংলো এবং বুলেট সংরক্ষণের ঘোষণা দেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ঐতিহাসিক স্থানটিকে দেখতে যাওয়া দর্শনার্থীরা বিভিন্ন বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। এখন ঐতিহাসিক স্থানটিকে ঘিরে মাদকসেবী ও চোরাকারবারীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় পর্যটকদের সংখ্যা কমে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান ম্যানেজার বাংলো সীমানা প্রাচীর দিয়ে চলাচল সংরক্ষিত করা হয়েছে।
অতীতে হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মরহুম এডভোকেট মোহাম্মদ আলী পাঠান ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়াকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত করে এ স্থানটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে সরকারের নিকট বিভিন্ন প্রস্তাব দেন। কিন্তু জমি জটিলতায় ন্যাশনাল টি কোম্পানী তেলিয়াপাড়া চা বাগান তাদের জায়গা হস্তান্তরে আপত্তির কারণে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না।
মাধবপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযুদ্ধো ফুল মিয়া জানান, আমরা হতাশ, দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে এলেও ঐতিহাসিক স্থানটির কোন উন্নতি হয়নি। স্বাধীনতার ৫১বছর হলেও মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সাক্ষী তেলিয়াপাড়ার কোন অগ্রগতি নেই। সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এনামূল হক মোস্তফা শহীদ ও বর্তমান বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুব আলী তেলিয়াপাড়ার সভায় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। তবে বাস্তবে কোন অগ্রগতি নেই।
তিনি আরো জানান, ১৯৭১ সালে জাতির পিতা রেসকোর্স ময়দানে ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণের পর মুক্তিপাগল বাঙালী মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এর ধারাবাহিকতায় ভারত-বাংলাদেশ কাছাকাছি স্থান ৪ এপ্রিল মাধবপুর উপজেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপকের বাংলোতে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অনেক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দেশকে স্বাধীন করার শপথ এবং যুদ্ধের রণকৌশল, আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধাস্ত গ্রহণ করা হয়। ওই বৈঠকে পুরো দেশকে ১১টি সেক্টরে বন্টন করা হয়।
তেলিয়াপাড়া বৈঠকে সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কর্ণেল আতাউল গনি ওসমানী, (অব) আব্দুর রব এমএনএ, লে. কর্ণেল সালেহ উদ্দিন মোহাম্মদ রেজা, মেজর কেএম সফিউল্লাহ, মেজর খালেদ মোশারফ, মেজর কাজী নুরুজ্জামান, মেজর মঈনুল হোসেন চৌধুরী, মেজর নুরুল ইসলাম, মেজর সাফায়েত জামীল, মেজর সি আর দত্ত, ক্যাপ্টেন মো. নাসিম, ক্যাপ্টেন মতিন, ক্যাপ্টেন সুবিদ আলী ভূইয়া, লে. সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহীম, লে. হেলাল মুর্শেদ খাঁন, লে. নাসির উদ্দিন, লে. মাহবুব, লে. আনিস, লে. সেলিম, ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডে, আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা আলী এম এন এ, মানিক চৌধুরী এম এন এ, মৌওলানা আসাদ আলী এম পি এ, এনামূল হক মোস্তফা শহীদ এম পি এ, মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী, দুলাল চৌধুরী, দেওয়ান আশ্রাফ আলী, ছাত্রনেতা কাজী কবির উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী পাঠান, শাহ মো. মুসলিম, শফিকুল হোসাইন চৌধুরী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ড. আকবর আলী খান এস ডি ও, কাজী রকিব উদ্দিন এস ডি ও, মমতাজুর রহমান সি ও, মাহবুবুল হুদা ভূইয়া, আব্দুল ছাত্তার, খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রমুখ।
তেলিয়াপাড়া চা বাগান ম্যানেজার বাংলোটি ৪ এপ্রিল থেকে মুক্তিবাহিনীর সদর দপ্তর ও পরে ৩ ও ৪ নং সেক্টর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ বছর ৪ এপ্রিল উদযাপনের জন্য হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা দিন ব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের অমরকীর্তি তেলিয়াপাড়া চা বাগান স্মৃতিসৌধের নানা উন্নয়নের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব গৃহিত হলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম অনেক কিছু জানতে পারবে এবং দেশ বিদেশের পর্যটকদের আগমন বেড়ে যাবে।