২ এপ্রিল ২০২২


হবিগঞ্জে বিভিন্ন হাসপাতালে ডাক্তারের ৯২টি পদ শূন্য

শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞসহ ডাক্তারের ৯২টি এবং নার্সসহ বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী, টেকনিশিয়ানের পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসা ক্ষেত্রে সমস্যা বিরাজ করছে। একারণে হবিগঞ্জের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে বহিরাগত চিকিৎসকদের ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল, ৭টি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ১৮টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিশেষজ্ঞসহ ডাক্তারের মোট মঞ্জুরিকৃত পদসংখ্যা ১৭৪টি। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তারের সংখ্যা ৮২জন।

১৯৯৫ সালে উদ্বোধন করা হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা পরবর্তীতে ২৫০ এ উন্নীত করা হলেও এর আনুসাঙ্গিক ব্যয় বরাদ্দ, চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বৃদ্ধি না করায় হাসপাতালে আগত রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এ হাসপাতালে ডাক্তারের মোট ৫৬টি পদের মধ্যে ৩২টি পদই শূন্য।

শূন্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে গাইনি, ইএনটি, ইউরোলজি, নেফরোলজি, সার্জারি, অর্থো-সার্জারি, শিশু, চর্ম ও যৌন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট এবং চক্ষু, প্যাথলজি, মেডিসিন, গাইনি, কার্ডিওলজি, মানসিক, গ্যাস্ট্রোলজি, এ্যানেসথেসিস্ট এর জুনিয়র কনসালটেন্ট পদ।

জেলা সদর হাসপাতালে আগত রোগীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সেবাবঞ্চিত হয়ে সুচিকিৎসার আশায় বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে কিংবা সিলেট ও ঢাকা যেতে বাধ্য হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে ৩৫টি বেসরকারি হাসপাতাল, ৯০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ৬টি দন্ত ক্লিনিক রয়েছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোরই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেই।

গত ২ বছরে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কয়েকবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও অনেকেই লাইসেন্স করেনি। এগুলোতে সপ্তাহে দুই দিন ঢাকা ও সিলেটসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত প্রায় ৬০ জন ডাক্তার প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে থাকেন। তারা প্রতি রোগীর নিকট থেকে ৫/৭শ’ টাকা এমনকি এর চেয়েও বেশি ফি গ্রহণ করে থাকেন। গরিব রোগীদের পক্ষে অনেক সময় ফি’র টাকা সংগ্রহ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো বিভিন্ন শ্রেণির দালালের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহ করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রোগীদের আকৃষ্ট করার জন্য এ সকল চিকিৎসক স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন ধরনের চটকদার ডিগ্রীর কথা উল্লেখ করেন। সাইনবোর্ডে ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহারকারী ডাক্তারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত না হওয়ায় এ প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসাব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বানিয়াচঙ্গে ২টি, আজমিরীগঞ্জে ১টি, নবীগঞ্জে ১টি, লাখাইয়ে ২টি, মাধবপুরে ১টি, চুনারুঘাটে ১টি এক্সরে মেশিন এবং হবিগঞ্জ সদরে ১টি, বানিয়াচঙ্গে ১টি, আজমিরীগঞ্জে ১টি, নবীগঞ্জে ১টি, লাখাইয়ে ১টি এবং মাধবপুরে ১টি এ্যাম্বুলেন্স অচল হয়ে পড়ায় রোগী আনা নেয়া ও চিকিৎসাক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মোহাম্মদ আমিনুল হক সরকার জানান, হাসপাতালে ডাক্তারদের মধ্যে ২ জন শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে, ১জন জেলা কারাগারে এবং ১ জন প্রেষণে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। রেডিওলজিস্টও বিদেশে ছুটিতে রয়েছেন। হাসপাতালের নবনির্মিত বহুতল ভবনের নীচতলায় কোভিড সাসপেক্টসহ আইসোলেশন ওয়ার্ড, ২ এবং ৩ তলায় শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম এবং ৬ তলায় কোভিড ওয়ার্ড চালু থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। প্রতিদিন আউটডোরে ৫/৬শ’ রোগী চিকিৎসার জন্য আসলেও ৩/৪শ’ রোগীকে ভর্তি করা হয়। অনেক সময় এ সকল রোগীর স্থান সংকুলান সম্ভব হয় না।

জানা যায়, হাসপাতালে প্যাথলজি এবং ব্লাড ব্যাংকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং টেকনোলজিস্টের ৩টি পদ শূন্য থাকায় আগত রোগীদের যথাযথ সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। অভিযোগে প্রকাশ, বর্তমানে হাসপাতাল এলাকায় বিভিন্ন ক্লিনিকের দালাল, প্রতারক, মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ, বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের লোকজনের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মুখলিছুর রহমান উজ্জ্বল জানান, হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলোতে রোগীদের সেবার মান যাতে উন্নত হয়, সে ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগ সচেষ্ট রয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকের কার্যক্রমের উপর স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন