৫ এপ্রিল ২০২২
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : ২০১৮ সালের মার্চ মাসে শুরু হয় সেতুর নির্মাণ কাজ। ৩০ মাসের মধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার নির্দেশনা ছিল দায়িত্ব প্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও যাদুকাটা নদীতে শাহ আরেফিন ও অদৈত্য মহাপ্রভুর নামে সেতুটির নির্মান কাজ আজো শেষ হয়নি। সেতুটির কাজ ৭০ ভাগ হয়েছে বলে জানায় দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ। যাদুকাটা নদীর উপর নির্মিত সেতুর কাজ জাদুর মত দ্রুত শেষ করার আহবান জানিয়েছেন এলাকার সকল মহল।
এদিকে, সেতুটি নির্মান কাজ সম্পন্ন না করায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সরকারের সুনাম রক্ষার্থে ও জনদূর্ভোগ লাগবে সেতু নির্মান কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য দায়িত্বশীলদের প্রতি আহবান জানান উপজেলার সচেতন মহল।
সেতুটি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটি ও বিন্নাকুলি এলাকায় নির্মিত হচ্ছে। সেতুটি সম্পন্ন না হওয়ায় প্রতি বছরের মত এবারও ২৯-৩১মার্চ পর্যন্ত শাহ আরেফিন(রহ.) ওরস,পনাতীর্থ ও মেলায় আগত লাখ লাখ ভক্ত আশেকানগন নদী পার হতে গিয়ে চরম দূর্ভোগের শিকার হন।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্য্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জাদুকাটা নদীতে শাহ আরেফিন ও অদৈত্য মহাপ্রভু নামে সেতুটি ৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণ কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন। পরে ২০১৮সালের মার্চে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
কবির ভূঁইয়াসহ স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, যাদুকাটা নদীর উপর সেতু নির্মাণো হলে বাদাঘাট বাজারসহ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। জাদুর ছোয়া লাগবে,দিন বদলের উন্নয়নের মহাসোপানে যুক্ত হবে এ উপজেলা। কিন্তু সেতুটি সম্পূর্ন হওয়ায় উপজেলার তিনটি শুল্ক বন্দর (বড়ছড়া, চারাগাও, বাগলী) স্থলবন্দর থেকে কয়লা, চুনাপাথর পরিবহন, পর্যটন স্পট শিমুল বাগান, নীল জলরাশির শহীদ সিরাজ লেক, বারেকটিলা, টাংগুয়ার হাওরে প্রতিদিনেই হাজার হাজার পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন যানবাহনে করে সহজে আসতে পারছে না।
এছাড়াও তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ধর্মপাশা, মধ্যনগর উপজেলার সীমান্ত সড়ক দিয়ে জেলার সাথে ও মধ্যনগর, ধর্মপাশা, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকার সাথে যোগাযোগে ব্যাঘাত হচ্ছে। তমা কনস্ট্রাকশননের প্রকল্প কর্মকর্তা মিয়া মোহাম্মদ নাসির বলে,বছরে চার-পাচঁ মাস কাজ করা যায় তাও খুব ঝুকিঁ নিয়ে। এরপরও কাজ দ্রুত গতিতে চলছে।
এলজিইডি ডিজাইন ও সুপার ভিশন ইঞ্জিনিয়ার আশুতোষ বড়ুয়া জানান, হাওর এলাকায় ১২ মাস কাজ করা যায় না। এরপরও আমরা দ্রæত কাজ শেষ করার জন্য চেষ্টা করছি।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল কবির বলেন, যাদুকাটা নদীতে নির্মাণাধীন সেতুটি খুব দ্রুতই কাজ শেষ করে মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উত্তর বড়দল ইউপির চেয়ারম্যান, যুবলীগ সভাপতি ও বাদাঘাট বাজার বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মাসুক মিয়া জানান, বর্ষায় নৌকা এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীটি পাড়ি দিতে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় লাগে। বাদাঘাট বাজার সহ বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা দূভোর্গ লাগবে সেতুটি নির্মান দ্রুত সম্পুর্ন করার দাবী জানাই।
বাদাঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা নিজাম উদ্দিন বলেন, স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সর্বস্থরের মানুষের সুবিধার জন্য যাদুকাটা নদীর উপর সেতুটি নির্মাণ কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যেই শেষ করে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার প্রয়োজনীয় প্দক্ষেপ গ্রহনের দাবী জানাই।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, সেতু নির্মাণ সম্পুর্ণ হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের প্রতিফলন ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই এলাকায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সেতুটি নির্মান শেষ করেন তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করব।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান কবির বলেন, সেতুটি উপজেলার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন,চালু হলে সড়ক পথের সুফলসহ এলাকার ব্যাপক উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। দ্রুত নির্মান কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে কথা বলব।