৮ মার্চ ২০২২


তবুও বদলায় না তাদের জীবন

শেয়ার করুন

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : আজ আন্তজার্তিক নারী দিবস। বিল্ডিং, কনস্ট্রাকশন ও মাটি কাটার মতো কঠিন কাজে নিয়োজিত নারীদের এখনও মজুরি বৈষম্যের অবসান হয়নি। কমলগঞ্জ উপজেলার চা বাগান সমূহের বেকার মহিলা শ্রমিকদের জীবন চলছে খুবই দুঃখ কষ্টে। পরিবার পরিজন ও সন্তানাদি নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে পুরুষদের পাশাপাশি তারা কঠিন কাজে লিপ্ত রয়েছেন। চা বাগানের বাইরের আশপাশ গ্রামের রাস্তা, কালভার্ট নির্মাণে মাটি কাটা ও মাথায় টুকরি দিয়ে মাটি স্থানান্তরের মতো কঠিন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে পুরুষদের সমান কাজ করলেও তাদের মজুরি তুলনামুলক কম রয়েছে বলে নারী শ্রমিকরা অভিযোগ তুলেছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিদিন সকালে দলবদ্ধভাবে পুরুষদের পাশাপাশি নারী চা শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে ছুটে বেড়ান। এদের কেউ কেউ নার্সারিতেও কাজ করছেন। আবার অধিকাংশরাই বস্তি কিংবা শহরের রাস্তা ঘাটে, বিল্ডিং-কনস্ট্রাকশনে ইট, পাথর ও বালু বহনের কাজে নিয়োজিত। আবার কেউ কেউ মাথায় টুকরি নিয়ে মাটি ভরাটের কাজও করছেন। কোদাল ও টুকরি নিয়ে সকালে রুটি দিয়ে নাস্তা করেই বের হয়ে পড়েন। সন্ধ্যা হলেই কাজ শেষ করে বাসায় ফেরেন।

দেওছড়া চা বাগানের নারী শ্রমিক বাসন্তী রবিদাস, শ্রাবন্তী রবিদাস, লক্ষèী, চিরাইয়া ও গাঙ্গীয়া রবিদাস বলেন, পুরুষরা চার থেকে পাঁচশ’ টাকা দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন। আর তাদের সমান কাজ করেও নারীরা আড়াই থেকে তিনশ টাকা মজুরি পান। তারা আরও বলেন, চা বাগানে তাদের কাজ নেই। পরিবারে ছেলে মেয়েসহ পাঁচ, সাত জন করে সদস্য রয়েছেন।

একজনের কাজ থাকলেও মাত্র ১২০ টাকা মজুরি দিয়ে এক থেকে দেড় কেজি চাল কেনার পর আর কোনো টাকা থাকে না। তরি তরকারি, রোগে-শোকে ওষুধ যোগাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। চা বাগানের লেবার লাইনে এভাবেই দুঃখ কষ্টে তাদের সংসার চলছে। বিকল্প কোনো কাজ না থাকায় জীবিকার তাগিদে মাটি কাটা ও মাথায় টুকরি দিয়ে মাটি স্থানান্তরের মতো কঠিন কাজ করতে তারা বাধ্য হচ্ছেন।

চা বাগানের শ্রমিক দেওরাজ রবিদাস, স্বপন রিকিয়াশন জানান, ঠিকাদার ও রাস্তাসহ বিভিন্ন প্রকল্পে মাটি কাটার কাজে পুরুষদের তুলনায় নারী শ্রমিকদের কম টাকায় খাটানো যায়। তাই এসব কাজে চা বাগানের মহিলা শ্রমিকদের বেঁচে নেওয়া হয়। অভাবী সংসারে কোনো মতে বেঁচে থাকার সংগ্রামে কাজ না পেয়ে নারী শ্রমিকরা এসব কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

শমশেরনরগর চা বাগানের ইউপি সদস্য সিতারাম বীন বলেন, দেওছড়া চা বাগানে বেকার শ্রমিকের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত। এসব শ্রমিকের পরিবার ও সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। তাই নার্সারি, বস্তি, রাস্তা ও কালভার্টে মাটি কাটা ও টুকরিতে মাটি ভরাট করে মাথায় করে মহিলা শ্রমিকরা কঠিন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। তবে তাদের মজুরি বৈষম্যের অবসান হওয়া উচিত।

শেয়ার করুন