৯ মার্চ ২০২২


সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প না বাণিজ্যিক হাট?

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : বিউটিফিকেশন প্রজেক্ট। নগরীর বিভিন্ন এলাকা সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এ ধরণের নাম দিয়ে প্রকল্প তৈরী করে সিসিক। পরক্ষণে সেখানে চলে রমরমা বাণিজ্য। এরকম রমরমা বাণিজ্যের শক্ত সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে নগরীর ফুঁসফুঁস খ্যাত সুরমাপারসহ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন স্পট।

২০০৫ সালে নগরের সুরমা নদীর পারে ক্বীনব্রিজের নিচের অংশের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এরপর বর্তমান মেয়র ক্ষমতা নেয়ার পর তিনি বলেন এটি হবে নগরবাসীর সুস্থ নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা। যেকোনো মুল্যে এখানকার পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। ঘোষণার পর কয়েকদফা বিউটিফিকেশন প্রকল্পের আওতায় ক্বীন ব্রিজের সৌন্দর্য বর্ধন করে মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু করা হয় এই স্থানকে। কিন্ত ক’দিন না যেতেই সিসিক নিজেই সুরমাপার দখল করে এক অংশ গাড়ির পার্কিং স্টেশন বানিয়েছে আর অপর অংশ অঘোষিত লিজ দেয়া হয়েছে কথিত এক ‘মুরব্বী সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রয়েছে সিসিকের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা একটি চক্র।

সরেজমিনে সুরমা পারে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর গড়াতেই মামুন চটপটি, ৩৬০ আউলিয়া, হযরত শাহজালাল র. সহ একাধিক নাম সম্বলিত চটপটির ১০ /১২টি দোকান ডজন ডজন চেয়ার নিয়ে ‘নিজস্ব বরাদ্দ প্রাপ্ত’ জায়গায় অবস্থান নিচ্ছেন। ভিভিআইপি সার্কিট হাউসের সম্মুখের এই অংশে প্রতিদিন প্রায় ২০ জন চটপটি বিক্রেতা বসে।

‘তাদের অনুমতি আছে’ এমন তথ্য দিয়ে জনৈক চটপটি বিক্রেতা বলেন, এখানে চটপটি ছাড়াও যেকোনো দোকান বসাতে অনুমতি লাগে। সেই অনুমতি নিতে হয় একজন মুরব্বী’র কাছ থেকে। আর সেই ‘মুরব্বী’র অনুমতি নিয়েই সুরমা পারের পুরো জায়গা দখল করেছেন প্রায় ৮৫ জন হকার। যারা চা, ইক্ষু, পান দোকান, বাদাম বিক্রেতা থেকে শুরু করে নানা ধরণের পসরা সাজিয়ে বসেন সেখানে।

তবে সরাসরি এখান থেকে কেউ চাঁদা আদায় করে না জানিয়ে অপর একটি সূত্র বলছে সুরমার পারের এই বাণিজ্যে সিসিকের একটি চক্র জড়িত। যারা মুলত গোপন আঁতাত করে জনৈক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দিয়েছে। আর সেই ব্যক্তিই হচ্ছেন মুরব্বী। যিনি কদাচিৎ সেখানে আসেন । তিনিই সুশৃংখল ভাবে ম্যানেজ করছেন সুরমাপার। যার জন্য আলাদা লোকও নিয়োগ রয়েছে এলাকায়। কোনো বিশৃংখলা দেখা দিলে তারাই সামাল দেন পরিস্থিতি। এযাবৎ এখানকার হকারদের মধ্যে কোনো বিরোধ হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে বন্ধ সারদা হলের সম্মুখভাগের সুরমা পারে প্রতিদিন রাখা হয় সিসিকের ট্রাকসহ প্রায় ২৫/৩০টি গাড়ি। দিনের বেলা কম সংখ্যক গাড়ি থাকলেও রাতের বেলা বেলা পুরো আলী আমজদের ঘড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে টাউনবাসহ সিসিকের নিজস্ব ভ্যান, ময়লা আবর্জনাবাহী গাড়িগুলো থাকে। ফলে এক সময় যারা ও প্রাত:ভ্রমণে বের হতেন, আর বিকেলে পরিবার নিয়ে ঘুুরতে যেতেন সুরমাপারে, নিতেন প্রকৃতি থেকে স্বস্থির নিঃশ্বাস-তারাও এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

অনুরূপ সিলেট নগরের যেখানেই সৌন্দর্য বর্ধন করা হয় সেখানে বহুমুখি বাণিজ্যিক চক্র তাদের দৃষ্টি বাড়ায়। সম্প্রতি সিলেট নগরের কয়েকটি স্থানে ওয়াকওয়ে গড়ে উঠলে চোখ পড়ে সেই বাণিজ্যিক চক্রের। তারা মেয়রকে বোঝাতে সক্ষম হয় এগুলো লিজ দিলে রক্ষাণাবেক্ষণ হবে এবং সিসিকও রাজস্ব পাবে। এবার আসা যাক সিসিকের লাভের দিকে। কত টাকা লাভের আশায় জল্লার পার ওয়াকওয়েতে গড়ে তোলা হচ্ছে অর্ধশত দোকান আর আর ঘুরতে যাওয়া মানুষদের বসতে দেয়া হচ্ছে বর্জ্যের উপর।

সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, একটি দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে গড়ে উঠেছে জল্লা পর্যন্ত। শেষ মাথায় একটি অফিস বা নিয়ন্ত্রণকক্ষ রয়েছে। দীর্ঘ এই ওয়াকজুড়েই গড়ে উঠেছে প্রায় ত্রিশটির মতো ছোট বড় দোকান কোঠা। ওয়াকওয়ের কোথাও স্বস্তিতে হাঁটাচলা কিংবা বসার জায়গা নেই। পাশের বর্জ্য ফেলার জায়গায় বাঁশ দিয়ে এবং খড়ের ছাউনি দিয়ে কিছ‚ বসার জায়গা তৈরী করা হয়েছে। সেখানে পা ফেলার জায়গার সামান্য ইট সুরকিও নেই। আছে ময়লা গন্ধযুক্ত বর্জ্য মিশ্রিত মাটি। যাতে বসতে গিয়েও মানুষ নাকে ধরতে হয় হাত দিয়ে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ব্যবস্থপনার স্বার্থে নাকি এই ওয়াকওয়েটি স্থানীয় কিছু যুবককে লিজ দিয়েছে সিসিক। একটি সংস্থার নামে লিজ দেয়া হয়েছে তাদেরকে। সংস্থার আড়ালে লিজ নিলেও সেটি দিনার, জনি সহ কয়েকজন পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, সিলেট নগরের উপশহরে নির্মিত ওয়াকওয়েটিও লিজ দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সকল প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। মাত্র আড়াইলাখ টাকায় লিজ দেয়া হচ্ছে সিসিকের একজন ঠিকাদারকে। সেখানেও জল্লারপারে মতো দোকান কোঠা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিসিকের জনৈক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, এ পুরো বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেখছেন। এ ব্যাপারে আমরা কিছ‚ জানিনা।

বিষয়টি নিয়ে জানতে মেয়র আরিফুল হক চৌধূরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনিও রিসিভ করেননি।

শেয়ার করুন