৩ মার্চ ২০২২


নবীগঞ্জে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে তোলপাড়

শেয়ার করুন

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে পকেট কমিটি গঠন ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও আহ্বায়ক কমিটির সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা ও সম্মেলন ছাড়াই ঘরে বসে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে। ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দের ছেলেদের নিয়ে কমিটি গঠন ও অনুমোদন দেওয়ায় এলাকায় তোলপাড় চলছে।

ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝেও চলছে সমালোচনা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে তাহসান মামুনকে সভাপতি ও জে আর জাহিদ হাসানকে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় উপজেলা ছাত্রলীগ। মেয়াদ উত্তীর্ণ ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ ফয়ছল তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রাজু’র স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

পদবঞ্চিতদের দাবি, কোনো ধরণের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। পদবঞ্চিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জানান, গত ইউপি নির্বাচনে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নে নৌকার মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে প্রচার করেন নবনির্বাচিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান মামুন, সহ-সভাপতি ওয়াফি আহমেদ, সহ-সভাপতি ইমন আহমেদ, সহ-সভাপতি রকি সূত্রধরসহ কমিটির অনেকে। বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে উপজেলা ছাত্রলীগ তাদের মনোনীত করে কমিটি বাণিজ্য করেছে। তৃণমূলের ত্যাগী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। বিষয়টি জানাজানি হলে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে। অনেকেই ফেসবুকে কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে স্ট্যাটাস দেন। একে পকেট কমিটি বলে মন্তব্য করেছে একটি পক্ষ।

২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আলী জুয়েব সুমন বলেন, ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর (নৌকার) বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিরোধিতাকারীকে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটিতে রাখা হয়েছে। অথচ আমি রানিং কলেজ স্টুডেন্ট, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিশ্বাসী একজন কর্মী ও ২ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সহ-সভাপতি দায়িত্বে থাকার পরও আমাকে কমিটিতে রাখা হয়নি।

নেতার পেছনে চামচামি না করার কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের মূল্যায়ন করা হয়নি। নবীগঞ্জ উপজেলার গ্রুপিংয়ের রাজনীতি এখন ইনাতগঞ্জে। যারা দলকে ভালোবাসে না তাদেরকে মূল্যায়ন করা হয়েছে নেতাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে। আমি উক্ত কমিটি প্রত্যাখান করলাম।

ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত আহ্বায়ক কমিটির আহবায়ক রুবেল বলেন, আমি ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির আহবায়ক হয়েও আংশিক কমিটিতে আমার নাম নাই। বঙ্গবন্ধুর গড়া সংগঠন স্বাধীনতার রক্তের সঙ্গে মিশে থাকা ছাত্রলীগে বর্তমান পকেট কমিটি হয়েছে। যা মেনে নেওয়া কঠিন। কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তৈরির জন্য আমরা দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মামুন ও জাহিদ হাসানকে সভাপতি ও সম্পাদক মনোনীত করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক মুসা আল রায়হান বলেন, কমিটি দেওয়ার নামে মেয়াদ উত্তীর্ণ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে কমিটি দিয়ে মোটা অংকের টাকা নেওয়া হয়েছে। অছাত্রদের এই কমিটিতে রাখা হয়েছে। এছাড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ছাবির আহমেদের আপন ভাই মামুন। আমরা এ ঘটনায় লজ্জিত। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও কমিটি বাতিল করে ত্যাগী নেতৃত্বের মূল্যায়ন চাই। তৃণমূল থেকে উঠে আসা ছাত্রলীগ কর্মীদের বর্তমান কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে, নবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০১৮ সালের মে মাসে। অনেক আগেই এই কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। ওই কমিটির কারো ছাত্রত্ব নেই বলে জানা গেছে। পকেট কমিটি গঠন ও পদ বাণিজ্য করে তারা সংগঠনে নিজেদের সক্রিয়তা বজায় রেখেছেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ ১ বছর হলেও ইতোমধ্যে উপজেলা ছাত্রলীগের এই কমিটি সাড়ে তিন বছর পার করেছে, কিন্তু আজও হয়নি পুর্ণাঙ্গ কমিটি। ফলে পদ-পদবী থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তৃণমূলের ছাত্রনেতারা। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি বদল হলেও এখনও বদল হয়নি নবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি।

ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক আশাহিদ আলী আশা বলেন, সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে নিজেদের লোকদের নিয়ে পকেট কমিটি গঠন ও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি সংগঠনের সামর্থ্য ও গতিশীলতা ধ্বংস করে। অবিলম্বে সকল পকেট কমিটি বাতিল ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সম্মেলন আহ্বানের দাবি জানাচ্ছি।

নবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ ফয়ছল তালুকদার বলেন, ত্যাগী নেতা দেখে কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

শেয়ার করুন