২ মার্চ ২০২২
শাবি প্রতিনিধি : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সমস্যাসমূহ সমাধান করে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও হলের সেবার মানোন্নয়নে করণীয় নির্ধারণ করতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন হল প্রভোস্ট বডি।
মঙ্গলবার রাতে হলের টিভিরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আবাসিক শিক্ষার্থীরা প্রভোস্ট বডির কাছে নানা সমস্যা তুলে ধরেন। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
হলে ধীরগতির ওয়াইফাই, খাবারের মান উন্নয়ন, পানির ফিল্টার মেরামত, গেস্টরুম চালু, হলের পাশের ভাগাড় থেকে দ্রুত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, রিডিংরুমের পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি, ক্রীড়াসামগ্রী প্রদান ও মশার উপদ্রব নিরসনসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। এসব সমস্যাসূহ অতিদ্রুত দূর করে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে অনুরোধ জানান শিক্ষার্থীরা।
এ সময় সমস্যা সমাধানের উপায় জানতে শিক্ষার্থীদের মতামত ও পরামর্শ চাওয়া হয়। সমস্যা সমাধান করে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির করার আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেন প্রভোস্ট বডি।
হল প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম বলেন, হলের সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের অংশ হিসেবে আজকে আলোচনা করেছি। সভায় শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। সমস্যা সমাধানে তাদের পরামর্শ নিয়েছি ও সহযোগিতা চেয়েছি। অতি দ্রুত সমস্যার সমাধান ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- সহকারী হল প্রভোস্ট মনিরুজ্জামান খান, আরিফুর রহমান, হেদায়েতুল্লাহ আলী হাদী প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের নানা সমস্যা সমাধান ও হল প্রভোস্ট বডির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ওই হলের আবাসিক ছাত্রীরা।
এরপর ১৬ জানুয়ারি বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত পরিচয় দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এরপর শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় উপাচার্যকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করে আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ২৬ জানুয়ারি টানা সাতদিনের অনশন ভাঙলেও উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির আশ্বাসে ১২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষার্থীরা।