১ মার্চ ২০২২
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা ও লাশ ছয় টুকরো করে গুমের চেষ্টার মামলায় গ্রেফতার প্রধান আসামি দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে সুনামগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ মাহাবুবুল ইসলামের আদালতে তাকে হাজির করা হলে জবানবন্দি দেয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর লিটন দেওয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে (৩৫) হত্যার প্রধান আসামি জিতেশ গোপ দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
এর আগে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০ ফেব্রুয়ারি আসামি জিতেশ চন্দ্র গোপ, অনজিৎ গোপ ও অসীত গোপের প্রথম দফায় আট দিনের এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে জগন্নাথপুর এলাকার সৌদি প্রবাসী ছরকু মিয়ার স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গভীর রাতে ফার্মেসির ভেতর ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করার কথা বলায় শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে লাশ ছয় টুকরা করে ফেলে তারা। পরে লাশ গুমেরও পরিকল্পনা করে। রাজধানী ও সুনামগঞ্জে অভিযান চালিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার হত্যার মূল তিন আসামিকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানতে পারে সিআইডি।
১৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টের ব্যারিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটের তালাবদ্ধ অভি মেডিক্যাল হল থেকে শাহনাজের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন নিহতের ভাই হেলালউদ্দিন বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০১৩ সাল থেকে পৌর শহরের নিজ বাসায় দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন শাহনাজ। তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে চাকরি করেন। পরিবারের ওষুধ ওই ফার্মেসি থেকে কেনার সুবাদে জিতেশের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। নিহত শাহনাজ কিছু দিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ সমস্যা সমাধানে পরামর্শের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকালে জিতেশের কাছে গেলে ফার্মেসির ভেতরে প্রাথমিক চিকিৎসা কক্ষে তাকে বসিয়ে রাখা হয়। কাস্টমারের ভিড় কমলে তার সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানে সঠিক ওষুধ তাকে দেওয়া হবে বলে কালক্ষেপণ করে।
ইন্সপেক্টর লিটন দেওয়ান বলেন, ‘আসামি জিতেশ তার বন্ধু মুদি দোকানদার অনজিৎ গোপ (৩৩) ও পাশের অরূপ ফার্মেসির মালিক অসিত গোপকে (৩৬) নিয়ে শাহনাজ পারভীনকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহনাজকে চিকিৎসার কথা বলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় জিতেশ। এতে তিনি ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। পরে তাকে ফার্মেসির ভেতর রেখেই জিতেশ বাইরে তালা দিয়ে চলে যায়। আশপাশের সব দোকান বন্ধ হলে গভীর রাতে ফার্মেসি খুলে ভেতরে প্রবেশ করে এনার্জি ড্রিংকস পান করায় তাকে। এরপর তারা শাহনাজ পারভীনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিষয়টি শাহনাজ তার পরিবারের সদস্য ও অন্যদের কাছে প্রকাশ করার কথা বললে আসামিরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এরপর তারা শাহনাজ পারভীনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং বিশ্রাম কক্ষে থাকা বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে হত্যা করে।’
মামলায় গ্রেফতার তিন জনসহ অজ্ঞাত দুই জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।