৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২
ইয়াহইয়া ফজল (অতিথি প্রতিবেদক) : তাঁর বিয়ে হয়েছে সেই ২০০৮ সালে। ফিরোজা হোসেনের সঙ্গে জীবনের ‘জুটি’ ৬ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক মঈন আলীর। সময়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এই ইংলিশ ক্রিকেটারের ঘর আলো করে আসা ছেলে আবুবকরের বয়সও এখন ৮। মেয়ে হাদিয়ার বয়স ৪।
সংসার জীবন শুরুর ১৪ বছর পর সন্তানদের নিয়ে নানার শহর সিলেটে প্রথমবার এসেছেন ইংলিশ অলরাউন্ডার। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে খেলতে এখন সেখানে অবস্থান করলেও জৈব সুরক্ষা বলয়ের কঠিন শৃঙ্খলের কারণে অবশ্য পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নই হয়ে থাকতে হচ্ছে তাঁকে।
মঈন বিচ্ছিন্ন থাকলেও সিলেট শহরে তাঁর শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে আবার সংযুক্ত হয়ে গেছেন কৌতূহলীরা। প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়ির এলাকায় পা রাখার কথা সংবাদমাধ্যমকে জানাতেই এখন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু মঈন আলীর শ্বশুড়বাড়ি। উৎসাহী অনেকে এখন সেই বাড়ির সামনে ভিড়ও করছেন।
নগরের পশ্চিম পীর মহল্লায় মঈনের শ্বশুরবাড়ি গিয়ে দেখা গেল ভেতরটা সুনসান। বেশ পুরনো অথচ টিপটপ দোতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকেন মঈনের শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পুরো পরিবারই যুক্তরাজ্য প্রবাসী। দীর্ঘদিন পর পরিবারের সবাই একসঙ্গে দেশে এসেছেন। মঈনের স্ত্রী ফিরোজা দুই সন্তানকে নিয়ে গত সোমবারই সিলেটে এসেছেন। বাড়ি ভর্তি মানুষ থাকলেও তেমন টের পাওয়া যায় না।
ফিরোজার বড় ভাই মো. গুলজার হোসেনকে পাওয়া গেল বাড়ির পাশের একটি রেস্টুরেন্টে। তিনিও যুক্তরাজ্য প্রবাসী। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অনাগ্রহী হলেও শেষ পর্যন্ত কথায় কথায় অনেকটাই বলে ফেললেন কালের কণ্ঠকে। ভগ্নিপতি খেলতে এসেছেন নিজের এলাকায়, বিষয়টি কিভাবে দেখেন জানতে চাইলে বলেন, ‘বোনজামাই আমাদের শহরে খেলতে এসেছেন, এতে অবশ্যই আলাদা ভালো লাগা কাজ করছে। ’
গুলজার হোসেনরা তিন ভাই, তিন বোন। বাবা এম হোসেন কয়েক দশক আগে যুক্তরাজ্য পাড়ি জমান। পরে গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে পুরো পরিবারকে তিনি সেখানে নিয়ে যান। সেখানেই তাদের বড় হয়ে ওঠা। মঈন আলীর সঙ্গে বিয়ে প্রসঙ্গে গুলজার বললেন, ‘আমরা লন্ডনে আর মঈন আলীর পরিবার বার্মিংহামে। পরিচয় ও পারিবারিকভাবে ২০০৮ সালে মঈন ও ফিরোজার বিয়ে হয়। তখনো সে আজকের মঈন হয়ে ওঠেনি। তখন সে লোকাল ক্লাবে ক্রিকেট খেলতো। ’
দীর্ঘদিন পর পরিবারের সবাই একসঙ্গে দেশে এসেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ছয় ভাই-বোন একসঙ্গে অনেকদিন পর দেশে এসেছি। যদিও ফিরোজারা আজ এসেছে। একই সময়ে আমার এক ভাই আবার যুক্তরাজ্যে ফিরেও গেছেন। তবুও সবাই মিলে এবার ঘোরাঘুরির পরিকল্পনা আছে। ফিরোজার আট বছর বয়সী ছেলে আবুবকর ও চার বছরের হাদিয়াও এসেছে। ’ এত কাছাকাছি থাকার পরও মঈন তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন না জানিয়ে বললেন, ‘কোভিড পরিস্থিতির কারণে এবার সিলেট আসলেও সে বাসায় আসতে পারছে না। তবে পরিবারের সঙ্গে ওর যোগাযোগ আছে। ’
মঈন যে এ বাড়ির জামাই, এলাকার লোকজন কি জানতেন, এমন প্রশ্নে বললেন, ‘আগে আশেপাশের দু’চারজন জানতেন। এবার তো সবাই জেনে গেছেন। ’ জেনে যাওয়ার বিপত্তিও তুলে ধরলেন গুলজার, ‘কিছু বিড়ম্বনা তো আছেই। কৌতুহলী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। অনেকে কৌতুহলবশত চলে আসেন। ’