১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারী ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি কিন্টারগার্ডেন, স্কুল, মাদ্রসা ও কলেজ গুলোতে শহীদ মিনার নেই। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পার হলেও স্থায়ী ভাবে আজও তৈরী করা হয় নি। আর হাওরাঞ্চলে সঠিক ভাবে প্রচার, প্রচারনা ও শহীদ মিনার না থাকায় কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী বুঝে উঠতে পারে না বিভিন্ন জাতীয় দিবস সম্পর্কে। ফলে পাঠ্য বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে তাদের। আর যে সব বিদ্যালয় গুলোতে শহীদ মিনার আছে সেগুলো আবার সারা বছরই থাকে অযতœ আর অবহেলায়।
সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলের ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর, বিশ্বাম্ভরপুর, দিরাই, শাল্লা, তাহিরপুর সহ ১১টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে তৈরী করা হয় নি শহীদ মিনার। ফলে পালন করা হয় না আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস, রবিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস।
শহীদ মিনার না থাকার ফলে প্রতি বছরই হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টিানে জাতীয় দিবস এলেই কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কলাগাছ কিংবা চেয়ার টেবিল দিয়ে বা অন্য কোন ভাবে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরী করে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকগন আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস পালন করে। বেশির ভাগ হাওরাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্টান সেই দিন বন্ধ থাকে। আর শিক্ষার্থীরা অন্যান্য সাভাবিক দিনের মত করেই সারা দিন বাড়ির কাজ ও খেলাধুলা করে সময় কাটায়।
ঐ দিন পার হলেই আর সেই শহীদ মিনার আর পাওয়া যায় না। আর শহীদ মিনার যে কয়েকটি বিদ্যালয় রয়েছে সে গুলো আবার থাকে সারা বছরেই অপরিচছন্ন অবস্থায় রং বিহীন, শহীদ মিনারের নিচে মাটি নেই। শহীদ মিনার এলাকায় গুড়া ফেরা করে মল ত্যাগ করে গরু, ছাগল সহ অন্যান্য প্রানী। কেবল ঐ দিন গুলো আসলেই আগের দিন ঘসা মাজা করে সৌন্দর্য বাড়ানো হয়।
জেলার তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ১৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৭ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩টি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৫টি মাদ্রাসা রয়েছে। তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়, জয়নাল আবেদিন মহা বিদ্যালয়, মানিকটিলা, তেলীগাঁও, দুধের আওটা, লক্ষীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ শতাধিক প্রাথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসায় স্থায়ী শহীদ মিনার নেই।
বালিজুরী এলাহী বক্স উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান,বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন বলেন, শহীদ মিনার না থাকায় দিন দিন হাওরাঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রী ও যুব সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ২১শে ফ্রেরুয়ারীর চেতনা।
রফিকুল ইসলাম, সাদেক আলী, মাসুক মিয়াসহ জেলার সচেতন মহল ও অভিবাবকগন বলেন, ভাষা ও স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎর্সগ করেছে এমন দৃষ্টান্ত বিশ্বের একটিও দেশেও নেই বাংলাদেশ ছাড়া। শহীদদের কে সম্মান দিতে,স্বরনীয় করে রাখতে ও ভবিষ্যত্ব প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে শহীদ মিনার নির্মান করা খুবেই প্রয়োজন। সরকার যদি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্টানে শহীদ মিনার স্থাপনের বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করেন তাহলে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল থেকে কালের আর্বতে হারিয়ে যাবে ১৬ডিসেম্বর,২৬শে মার্চ,২১শে ফ্রেরুয়ারীর চেতনা ও মর্যাদা।
এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম জাহান রাব্বি জানান, আমরা শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য আবেদন করেছি। শহীদ মিনার স্থাপনের ব্যাপারে সরকারী ভাবে কোন বরাদ্ধ পাওয়া যায় নি। পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পূনেন্দ্র দেব বলেন, শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য উপজেলার সকল স্কুলের খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ভাষা ও মুক্তিযোদ্ধের শহীদদের প্রতি সর্ম্মান প্রদর্শন ও স্বরনীয় করে রাখতে এবং ভবিষ্যত্ব প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপর করা খুবেই প্রয়োজন।
(আজকের সিলেট/১৩ ডিসেম্বর/ডি/কেআর/ঘ.)