৩০ জানুয়ারি ২০২২


চাপ বাড়ছে শামসুদ্দিন হাসপাতালে

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটের কোভিড হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। গত সপ্তাহে এ বিভাগে করোনার জন্য ডেডিকেটেড শহীদ ডা: শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রোগী ভর্তির হার ছিল পঞ্চাশের নিচে। কিন্তু,গত শুক্রবার থেকে এ হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: মিজানুর রহমান জানান, তাদের হাসপাতালে গতকাল শনিবার সবমিলিয়ে ৬৩ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে পজিটিভ ৫৩ জন এবং সন্দেহভাজন ১০ জন। ৭ জন আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। শুক্রবার শামসুদ্দিনে ৬০ জন রোগী ভর্তি থাকলেও পরদিন আরো তিনজন রোগী বেড়েছে।

তিনি বলেন, যে হারে রোগী বাড়ছে, এ অবস্থা বিদ্যমান থাকলে এ সপ্তাহেই হাসপাতালের সিট ফিলাপ (পূর্ণ) হয়ে যেতে পারে। এ হাসপাতালের সিট সংখ্যা-১০০টি।

ডা: মিজান জানান, শামসুদ্দিন হাসপাতালে বয়স্ক এবং গুরুতর রোগীরাই মূলত ভর্তি হচ্ছে। লোকজন মাস্ক ব্যবহার না করায় এবং ভ্যাক্সিন না নেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। কোভিড আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় এ হাসপাতাল পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে, শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে আরও ৪১৯ জনের করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। এ সময় ১ হাজার ৪৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এ নিয়ে বিভাগে এখন পর্যন্ত ৬২ হাজার ১৫৬ জনের করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন একজন। নিহত ব্যক্তি সিলেট জেলার বাসিন্দা। এই বিভাগে করোনায় সংক্রমিত হয়ে মোট মারা গেছেন ১ হাজার ১৯৭ জন।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া করোনাসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগে ২৩ জানুয়ারি থেকে দৈনিক শনাক্তের হার ৩০ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। এর মধ্যে ২৬ জানুয়ারি সর্বোচ্চ শনাক্তের হার ছিল ৩৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৩০ শতাংশের নিচে নেমেছে।

বিভাগে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন ১৭৩ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১৩৩ জন, সুনামগঞ্জ জেলায় ১৭ জন, হবিগঞ্জ জেলায় ২ জন ও মৌলভীবাজার জেলায় চিকিৎসাধীন ছিলেন ২১ জন।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, গত ডিসেম্বর মাসের শেষ দিক থেকে সংক্রমণের হার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে করোনার নতুন ধরন অমিক্রন ছড়িয়ে পড়ার কথা জানা গেলেও সিলেটে সেটি শনাক্তের ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাঁদের নমুনা পরীক্ষায় অনীহা রয়েছে।

হিমাংশু লাল রায় আরও বলেন, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি রোধে সবাইকে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব এবং ঘর থেকে বাইরে বের হলেই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

শেয়ার করুন