২২ আগস্ট ২০২৩
ছাতক সংবাদদাতা: ছাতকে গ্রামীন রাস্তায় মাটি ভরাট কাজে টিআর, কাবিকা, কাবিটা ও নগদ অর্থ বরাদ্দের প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দক্ষিন খুরমা ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে মাটি ভরাটের কোন কাজ না করিয়েই বরাদ্দের সাকুল্য অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৭ আগষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য স্বপ্না বেগম।
এসব প্রকল্পের টাকা আত্মসাতে তার অভিযোগ ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দীকের বিরুদ্ধে রয়েছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নে ৬ প্রকল্পে মাটি ভরাট কাজে নগদ অর্থ সহ টিআর, কাবিকা ও কাবিটা থেকে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব প্রকল্পে কোন কাজ না করিয়ে বরাদ্ধের সাকুল্য অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করেন মেম্বার চেয়ারম্যান ও উপজেলার প্রকল্প কর্মকতার মাধ্যমেই। অনিয়ম ও লুটপাটের ঘটনা ধামাচাপা দিতে উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর সহযোগিতায় গোপনে দফা দফা বৈঠক চলছে অভিযোগ প্রত্যাহার নিয়েই।
ইউনিয়নের ডিংকা মনিরজ্ঞাতি মাদ্রাসার মাটি ভরাট কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ লাখ টাকা। এখানে কোন কাজ করা বা মাটি ভরাট কাজ হয়নি। বলই হাওরের বাঁধে মাটি ভরাটের জন্য সাড়ে ৫ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। মাটি ভরাট না হওয়ায় ওই বছর পানির অভাবে অনেকেই ফসল ফলাতে পারেনি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হচ্ছে।
কুম্বায়ন গ্রামের পুরাতন জামে মসজিদের সামনে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। এখানেও কোন কাজ না করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। ২ লক্ষ ৫৪ হাজার ২০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় সেনপুর গ্রাম হতে নোয়াগাঁও পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাট কাজের জন্য। কিন্তু এখানে একটি টাকার কাজও করা হয়নি। কুম্বায়ন গ্রামের ঈদগাহের রাস্তাায় মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ১৫ মেট্রিক টন গম। কাজ না করিয়ে ভাগ-বাটোয়ারা করে বরাদ্দের টাকা লুটপাট ও আত্মসাৎ করা হয়। মনিপুর হতে হাইতকারি ব্রীজ পর্যন্ত মাটি ভরাট কাজের ২ লাখ টাকার কোনো কাজ করা হয়নি।
এদিকে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের ৩টি প্রকল্পে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এর মধ্যে ছেগাপাড়া গ্রাম হতে আব্দুল গিয়াসের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাট কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ লাখ টাকা। বাস্তবে ওই রাস্তায় কোনো কাজ করা হয়নি। সেনপুর হতে নোয়াগাঁও রাস্তার মাটি ভরা না করিয়ে বরাদ্দের ২ লাখ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে। কুম্বায়ন গ্রামের কবর স্থানে মাটি ভরাটের জন্য সরকরী বরাদ্দ দেয়া হয় প্রায় ৬ লাখ টাকা। ওই টাকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। কোন রকম কাজ না করিয়ে সরকারী টাকা পুরোটাই ভাগ-বাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করায় এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এসব প্রকল্প সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানানো হয় অভিযোগে।
এ ব্যাপাওে ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দীক তার বিরুদ্ধে আনীতি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব প্রকল্প স্থানীয় মেম্বার ও মহিলা সদস্যদের কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা কাজ না দেখে প্রকল্প কমিটিকে বিলের টাকা উত্তোলনের সুযোগ করে দেন।
এব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কেএম মাহবুব রহ মান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার বরাবরে দেয়া অভিযোগের প্রাপ্তি সত্যতা নিশ্চিত করেন