৩০ জানুয়ারি ২০২২
অতিথি প্রতিবেদক : কথায় আছে- ‘মাঘের শীত বাঘের গায়েও লাগে’। মওসুমের শুরুতে শীতের তেমন তীব্রতা ছিল না। তবে, শেষ বেলাতে এসে যেন প্রবাদ বাক্যের সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে সিলেটসহ পুরো দেশ।
আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি, এরপরই শুরু হবে নতুন ঋতু; ঋতুরাজ বসন্ত। ঋতুর পালাবদলের ঠিক আগ মুহূর্তে, মাঘের মাঝামাঝিতে এসে শীত যেন তার শেষ আঁচড় দিয়ে যাচ্ছে। শীতের প্রকোপ বেড়েছে হঠাৎ করেই। চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে দিনের বেলাতে রোদের আলোতে তেজ নেই, কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো বাতাসের তীব্র শীতে জবুথবু সিলেটের জনজীবন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাসও বলছে, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা এবং কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। রাতের ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল শনিবার সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতা ছিল সকালে ৬৭ শতাংশ এবং সন্ধ্যায় ৫৬ শতাংশ।
সিলেটের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, গতকাল শনিবার ছিল সিলেটে চলতি বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ রোববার সিলেটের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি পর্যন্ত কমতে পারে। তবে, এরপর থেকে আস্তে আস্তে বাড়বে তাপমাত্রা।
তিনি জানান, আগামী মাসের প্রথম দুইদিন সিলেটে হালকা বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তীতে ৫, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারী মাঝারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হবে এই অঞ্চলে। ওই সময়ের মধ্যে দিনে-রাতের তাপমাত্রা বাড়লেও শীতের তীব্রতা কমবে না। সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, ২০১১-১২ সাল পর্যন্ত ডিসেম্বরে শীতের তীব্রতা থাকতো সবচেয়ে বেশী। জানুয়ারিতে এসে কমে যেতো শীতের তীব্রতা। কিন্তু, জলবায়ুর পরিবর্তনে গত এক দশকে শীতের তীব্রতা ঠাঁই নিয়েছে জানুয়ারিতে।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামীতে ফেব্রুয়ারিতেও শীত অনুভূত হবে।
শীতের এই আবহে নগরজীবন কিছুটা স্থবির, বিপাকে পড়েছেন নগরীর ভবঘুরে ও পথশিশুসহ নিম্ন আয়ের লোকজন। তবুও থেমে নেই জনজীবন। জীবিকার তাগিদে ছুটে চলছেন সবাই। শীতের উপলক্ষকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই পিঠামেলাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। তবে, গত বছরের মতো এবারও করোনার ব্যাপক সংক্রমণের কারণে সীমিত করা হয়েছে সব আয়োজন।
নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, ঠান্ডা বাতাস ও হাড় কনকনে শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে নগরীর রাস্তাঘাট। মুখে মাস্ক, মাথায় টুপি আর ভারি সোয়েটারে নিজেদের আড়াল করে সবাই ছুটছেন নিজ গন্তব্যে। তবে, বিপাকে পড়েছেন ভবঘুরে ও পথশিশুসহ নিম্ন আয়ের লোকজন। ভূমিহীন, খেতমজুর, ছিন্নমূল, বস্তিবাসী, ভবঘুরে লোকজন শীতবস্ত্রের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। তীব্র ঠান্ডায় ফুটপাতেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে। কেউ আবার পাতলা চাদর জড়িয়ে ফুটপাথে শুয়ে পার করছেন দিন-রাত। বৃদ্ধ ও ছোট শিশুরা নিদারুণ ঠান্ডায় কষ্ট পাচ্ছেন।
অপরদিকে, শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও শীতের তীব্রতায় বিপাকে পড়েছেন মানুষজন। বিশেষ করে কৃষককুল পড়েছেন বিপদে। কুয়াশা আর শীতের কারণে ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদও।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদরা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, আমাদের বৈরী আচরণে জলবায়ু কতটা পরিবর্তিত হচ্ছে তা প্রকৃতির চরমভাব জানান দিচ্ছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ খুব বেশি দায়ী না হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশটি।
তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের প্রধান নিদর্শন হচ্ছে- শীত বা উষ্ণতা সর্বোচ্চ মাত্রায় ঘটবে এবং ঘন ঘন আবির্ভূত হবে। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য সকলকেই সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।