১১ জানুয়ারি ২০২২


সিলেটে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : গত বছরের জুলাই-আগস্টে করোনায় মৃত্যুর মিছিল দেখেছে সিলেটবাসী। প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বেড়েছিল আক্রান্ত ও মৃত্যু। তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না হাসপাতালে। অপ্রতুল সেবাখাত ন্যুজ্ব হয়ে পড়েছিল। সংকট দেখা দেয় অক্সিজেন সরবরাহে। হাসপাতালের সীমিত আইসিইউ শয্যা ও ভেন্টিলেশন নিয়ে রোগীর স্বজনরা করেছেন কাড়াকাড়ি। স্বজন হারানোদের আর্তনাদে ভারি হয়ে ওঠেছিল ধরণীতল। যারা করোনার আলিঙ্গনে থেকে ফিরে আসাদের অনেকের বর্ণনায় ছিল ফের দ্বিতীয় জীবন পাওয়া।

ভয়াবহ অন্ধকারাচ্ছন্ন দিনগুলোর অমানিশা কাটতে শুরু করে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে। ক্রমান্বয়ে কমে আসতে থাকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার। সেই সংখ্যা শূন্যের কোঠায় ছিল গত কয়েক মাস। কিন্তু নতুন বছরে জানুয়ারিতে দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সিলেটে আবারও চোখ রাঙাচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস।

মৃত্যুর মিছিলে লাগাম থাকলেও প্রতিদিন বাড়ছে সংক্রমণের হার। গেল ডিসেম্বরের পুরো মাসে যেখানে করোনাক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১০৬ জন, সেখানে চলতি জানুয়ারির প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই শনাক্ত হয়েছেন ১৮১ জন! এই পরিস্থিতিতে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৭৮ জনের করোনা পরীক্ষা করিয়ে শনাক্তের হয়েছে ৩৬ জন। হাসপাতালে ভর্তি ২ জন এবং ৪ জন সুস্থ হয়েছেন। শনাক্তের হার ৪ দশমিক ১০ শতাংশ। আগের দিন সোমবার ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। তবে, আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও মৃত্যুর হার রয়েছে শূন্যের কোঠায়। শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৮০। রোগী শনাক্তের সংখ্যা ও শনাক্তের হার গত প্রায় চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ! বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ওই অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় চার মাস সিলেট বিভাগে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। আর ডিসেম্বর মাসেই অন্তত পাঁচদিন কোনো রোগী শনাক্ত হননি। কিন্তু পরিস্থিতি এখন বদলাতে শুরু করেছে। প্রতিদিন বাড়ছে সংক্রমণের হার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সংক্রমণ বাড়ছে। কিন্তু তুলনামূলক করোনা পরীক্ষা কম হচ্ছে। যে কারণে শনাক্তের সংখ্যা বেরিয়ে আসছে না। তবে, সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, এখন দ্রুত ছড়ানো এই সংক্রমণ করোনার ওমিক্রন না ডেল্টা ভেরিয়েন্ট, তা পুরোপুরি বুঝা যাচ্ছে না। তবে, যেভাবে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে, তাতে জনসাধারণকে সচেতন হওয়া ছাড়া বিকল্প উপায় নেই। সুরক্ষিত থাকতে হলে সরকারের বিধি-নিষেধ মেনে চলা খুবই প্রয়োজন। নতুবা জনগণের উচ্ছৃঙ্খলতার জন্যে সরকার কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করতে বাধ্য হবে। তাছাড়া, ভ্যাকসিন নিলেও যে ঝুঁকিতে পড়বেন না, করোনা আক্রান্ত হবে না, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। ফলে এই সংক্রম প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুসারে, ১ জানুয়ারি সিলেট বিভাগে করোনায় সংক্রমণের হার ছিল ১ দশমিক ৩১ শতাংশ, ২ জানুয়ারি শূন্য দশমিক ৪২, ৩ জানুয়ারি ১ দশমিক ২০, ৪ জানুয়ারি ১ দশমিক ৫২ শতাংশ। ৫ জানুয়ারি সংক্রমণের হার ছিল ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এরপর ৬ জানুয়ারি ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ, ৭ জানুয়ারি ১ দশমিক ৬১ শতাংশ, ৮ জানুয়ারি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ৯ জানুয়ারি ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ ছিল সংক্রমণের হার। এসব হার ছাপিয়ে গেছে গত ২ দিনের আক্রান্ত সংখ্যা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ডিসেম্বরে সিলেট বিভাগে ১০৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হন। মারা গেছে ৩ জন। ২০২০ সালের ১০ মার্চ থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সিলট বিভাগে করোনা আক্রান্ত হন ৫৫ হাজার ২৩১ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেছেন ৪৯ হাজার ৯৯০ জন। আর মারা গেছেন ১ হাজার ১৮৩ জন।

এদিকে, সিলেটজুড়ে জ্বর, সর্দির প্রকোপ ক্রমশ বাড়লেও করোনার পরীক্ষার বাইরে রয়েছেন সেসব মানুষ। প্রতিদিন বিভাগের চার জেলা মিলিয়ে ৬/৭শ’ মানুষের নমুনা পরিক্ষা হচ্ছে। করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়লে সংক্রমণের হার বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলেটে বেশ কিছুদিন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখন আবার বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সবাইকে সচেতনতা প্রয়োজন। বাইরে বেরোলে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। কঠোরভাবে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

শেয়ার করুন