৩ জানুয়ারি ২০২২
বালাগঞ্জ প্রতিনিধি : বালাগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নে বড়ভাগা নদী ভাঙ্গনে বিলীন হতে চলছে কাশিপাড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকা। ইতিমধ্যে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দিশেহারা ১৫ টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো এখনো পায়নি কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা। নদীতে ভাঙ্গনে ঘর বাড়ি হারিয়ে কেউ অন্যের বাড়িতে কেউ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।ভাঙ্গন আক্রান্ত বাড়িগুলোর নিকটবর্তী আরো কয়েটি পরিবারের বসতঘরে ফাটল দেখা দেয়ায় তারা আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন। যেকোনো সময় ওই ঘরগুলো নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সব শেষে রোববার শেষ রাতের দিকে হঠাৎ করে ভাঙনের শব্দ শুনে লোকজন ঘুম থেকে উঠে দিগবিদিগ ছোটাছুটি করতে থাকেন। চোখের সামনেই বসতঘরগুলো ভেঙে পড়েছে। ঘর থেকে মূল্যবান মালামাল বা গ্রহস্থালী জিনিসপত্র কিছুই সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি।
হত দরিদ্র আনোয়ারা বেগম ও আহাদ মিয়ার ঘরের পুরো অংশ নদীর তলদেশে চলে গেছে। ধসে পড়েছে আরো কয়েটি ঘরের অর্ধেকেরও বেশি অংশ। ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে যাদের কিছুটা সামর্থ্য আছে তারা কাশিপুর ব্রীজের নিকটের রাস্তার পাশে কোনো রকম একটি ঘর তুলে মাথা গোঁজার ঠাঁই করার চেষ্টা করছেন। আর যারা দিনমজুর ও কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা শুধু দীর্ঘশ্বাসই ছাড়ছেন।
ক্ষতিগ্রস্থ আনোয়ারা বেগমের পরিবারের সদস্য সংখ্যা আটজন। হাত দিয়ে দেখিয়ে বললেন-ওখানে আমার বসত ঘর আছিল ঘরের নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যাবহারী জিনিস পত্রসহ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন অন্য মানুষর বাড়িতে থাকছি। এখন আমরা কোথায় যাব ভেবে পাচ্ছি না ।
নদী ভাঙনের শিকার তজমুল আলী ও ফারুক আহমদ বলেন, ভোট আসলে আমাদের কদর বাড়ে, এখন সবাই দেখতে আসেন আর ছবি তুলেন। আমাদের জন্য কেউ কিছু করার প্রয়োজন মনে করেন না। অন্য কোথাও যে ঘর বানাবো সেই সামর্থও নেই, কারো কাছ থেকে কোনো সাহায্য-সহযেগিতাও পাচ্ছি না। আমাদেরকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দিতে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার বলেন, ভাঙ্গন এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলে তাদের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকের নিকট পাঠিয়েছি।