২০ ডিসেম্বর ২০২১


‘ধানের এমন পাগল করা ঘেরান কিলা ভুলতাম’

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : কল্কির টানে একটুখানি দম নিচ্ছেন হরিবাবু। পাশে আরো চারজন ধান মাড়াইয়ে ব্যস্থ। মাঠ থেকে আঁটি বেঁধে বিশাল উঠোনে ধান রাখছেন আরো দুইজন। হরি বাবুর উঠোন জোরে কেবলই ব্যস্ততা। সাথে আছে উৎসবের আমেজও। উঠোনে রাখা ধান থেকে আসছে গন্ধ। সেই গন্ধ বারবার জানান দিচ্ছে নবান্ন উৎসবের। নগরীর দক্ষিণ সুরমার জালালপুর গ্রামে গিয়ে এমন দৃশ্যই দেখা গেল হরিবাবুর উঠোনে।

সিলেট অঞ্চলে আমন মৌসুমে ব্যস্থতা বাড়ে কৃষাণীদের। ধান সেদ্ধ দিতে ধুম পড়ে মহিলাদের। বিকেলে ইট দিয়ে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয় অস্থায়ী উনুন। জ্বালানি হিসেবে খড় ও ধানের ভূসি দিয়ে তৈরি কয়েল লাকড়ি ব্যবহার করা হয়। জমিলা বিবি ১৩ বছর বয়স থেকেই ধান সেদ্ধ করেন।

বিয়ে পরবর্তী ৬৩ বছর বয়সে এসেও স্বামীর বাড়িতে একই কাজ করছেন তিনি। মাথায় কাপড় টেনে জানালেন কথা বললেন প্রতিবেদকের সাথে। জানালেন,তৃপ্তির কথা-আনন্দের কথা। তিনি বলেন, ‘ধানের এমন পাগল করা ঘেরান কিলা ভুলতাম ? আগন মাস আইলেই সেই গন্ধ নাকও আইয়া লাগলেই মনটা অন্য রকম অইযায়। ওউ ধানের মাঝেই আমরার সুখ-দু:খ. আনন্দ-বেদনা জড়িত’।

কথা প্রসঙ্গে তিনি জানান, একসময় মা-দাদীরা বড় বড় মাটির হাঁড়িতে ধান সেদ্ধ করতেন। এখন সিলভার পাতিলে ধান সেদ্ধ করেন ইট দিয়ে তৈরি অস্থায়ী মাটির চুলায়। এক একটি পাতিলে ২০ কেজি ধান সেদ্ধ করা যায়। ২ মন ধান একসাথে সেদ্ধ করা যায় অল্প সময়ে। একটি পাতিলে ধান সেদ্ধ করতে সময় যায় ৪০/৪৫ মিনিট।

তিনি আরো বলেন, ‘ধান সেদ্ধ দেয়ার পর মাটিতে বিছানো ত্রিপোল ও বাঁশের চাঁটি কিংবা বিশেষ ধরনের তৈরি মাটির ‘খলা’য় ঐ সেদ্ধ ধান শুকানো হয়। ধান শুকাতে রৌদ্রের তাপ অনুযায়ী ২/৩ দিন লেগে যায়। বেশি কুয়াশা বা বৃষ্টি হলে ধান শুকাতে সমস্যা হয়। রোদ যত বেশি ধানের জন্য তত ভালো।’ সেদ্ধ ধান থেকে যখন চাল তৈরি হয়, তখন সারাদিনের কষ্ট ভুলে আনন্দে মন প্রাণ ভরে যায় বলে তিনি জানান।

একই গ্রামের সিতারা বেগম জানান, অগ্রহায়ণ আসলে আমাদের সারাদিন ব্যস্থ থাকতে হয়। বাড়ির পুরুষের চলে যান মাঠে ধান কাটতে, ধান বাড়িতে এনে মাড়াই করতে।

আর আমরা মহিলারা সকাল থেকে ঘরের রান্নাবান্নার কাজসহ ধান শুকানো, খড় শুকানো ও ধান সেদ্ধ করে থাকি। শেষ করতে করতে রাত ৯ থেকে ১০ টা হয়ে যায়। পরদিন সকাল থেকে আবার একইভাবে কাজ শুরু করি।

সিলেট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর জেলায় আমন ফসল চাষাবাদ হয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার টন চাল।

শেয়ার করুন