১৩ ডিসেম্বর ২০২১


সুপেয় পানির সঙ্কটে তিন শতাধিক পরিবার

শেয়ার করুন

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কয়েক যুগ ধরে বেশ কয়েকটি টিলায় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। দুর্গম পাহাড়ি টিলার পল্লীতে ঝর্ণা ও নদী পানির থাকলেও সবসময় সেখানে পর্যাপ্ত সুপেয় ও নিরাপদ পানি না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেখানে মানুষেরা। ফলে বিভিন্ন রকম পানিবাহিত রোগ দেখা দেয়। এ অবস্থা চললেও টিলাবাসীর পানির সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।

উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বারেকটিলা, মাঝের টিলা, চানপুর টিলায় ৩শতাধিক পরিবার বসবাস করে। ভুক্তভোগীরা বিশুদ্ধ পানি সংকটে থাকার বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোকজনকে অবহিত করলেও কোনো সুফল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বারেকটিলা, মাঝের টিলা, চানপুর টিলায় বসবাসকারী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, টাংগুয়ার হাওর, সীমান্তে শহীদ সিরাজ লেক, এশিয়ার বৃহত্তর শিমুল বাগান, বারেকটিলার জন্য পর্যটন স্পষ্ট হিসেবেও তাহিরপুর উপজেলা অত্যন্ত সুপরিচিত। আর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নে অবস্থিত সীমান্ত ঘেঁষা পর্যটন স্পষ্ট খ্যাত বারেকটিলা(বারিক্কা টিলা), মাঝের টিলা, চানপুর টিলার সৌন্দর্য দেখতে আসা দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটকদেরও বিশুদ্ধ পানির অভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

১৯৪২ সাল থেকেই এ টিলায় বসবাস শুরু হয় আদিবাসীদের। ২০০৮ সালে রোমান ক্যাথলিক চার্চে একটি নলকূপ স্থাপন করলেও পানি না আসায় প্রথম থেকেই অকেজো হয়ে আছে। টিলায় বসবারত গ্রামগুলোতে তীব্র পানি সংকট থাকায় বাসিন্দারা হেঁটে দীর্ঘ পথ পারি দিয়ে পানি সংগ্রহ করে। বেশির ভাগ পানিই তারা পাহাড়ি টিলার ঝিরি ঝর্ণা থেকে সংগ্রহ করে। গ্রীষ্ম কালে কাছের ঝিরি, ঝর্ণার পানি শুকিয়ে যাওয়াতে পানির জন্য তাদের দূরের পথ পারি দিতে হয়। নিরাপদ পানির আশায় জীবন ঝুঁকি নিয়ে পানি সংকট মোকাবিলা করতে বোতল জাত পানি ক্রয় করতে হয় না হলে এক কলস পানি ২০টাকা দরে কিনতে হচ্ছে তাদের। আর এক ড্রাম (৩৫ লিটার) পানির জন্য খরচ হচ্ছে ১০০টাকা। এ অবস্থা চললেও টিলাবাসীর পানির সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।

বারেকটিলায় বসবাসরত আদিবাসী নেতা পুলক আজিম জানান, তাদের এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। শুধু বারেকটিলা নয়, সীমান্তে বেশ কয়েকটি টিলার উপর বসবাসরত মানুষের বিশুদ্ধ পানি খাওয়ার ব্যাবস্থা নেই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সম্রাট মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ি টিলাগুলোতে পানি সংকট রয়েছে। বিশুদ্ধ পানি না থাকায় অনেক সময় নদীর পানিই পান করতে হয় আদিবাসীদের।

উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সমাজ সেবক মাসুক মিয়া জানান, উপজেলার সীমান্ত এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে বারেকটিলা, মাঝের টিলা, চানপুর টিলাসহ সীমান্তের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা এখনো নিশ্চিত করা যায় নি।

উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, টিলার উপর টিউবওয়েল বসানোর সুযোগ নেই। এ জন্যই মূলত পানি সংকট।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আল আমিন বলেন, জায়গাটি সার্ভে করে বড়গোট টিলার বাসিন্দাদের পানির সংকট নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, টিলায় বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা কি ভাবে করা যায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রায়হান কবির বলেন, পানি সংকটের বিষয়টি টিলায় বসবাসকারী লোকজনের পক্ষে থেকে আবেদন করা হলে বিশুদ্ধ পানি ব্যাবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন