৭ ডিসেম্বর ২০২১
ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ‘সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেল পরিচিতি ও ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানকে আরো গতিশীল ও ব্যবসা বান্ধব করতে তুলে ধরেছে নানা পরিকল্পনা। তারা ২০১৮-১৯ সেশনে গৃহিত নানা উদ্যোগের বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে এই প্যানেলকে বিজয়ী করার আহবান জানান। আগামী ১১ ডিসেম্বর ব্যবসায়ীদের বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার রাতে নগরীর দক্ষিণ সুরমাস্থ কুশিয়ারা কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হয় প্যানেল পরিচিতি ও ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান। এতে সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের নেতৃবৃন্দ প্যানেলে প্রার্থী ছাড়াও সিলেটের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও চেম্বারের সাবেক পরিচালক ও প্রবীণ ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক চেম্বারের সাবেক পরিচালক আমিরুজ্জামান চৌধুরী দুলু। প্যানেলের অর্ডিনারী প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের আহবায়ক খন্দকার সিপার আহমদ। এসোসিয়েট শ্রেণীর প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সিলেট চেম্বারের বর্তমান পরিচালক সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক এহতেশামুল হক চৌধুরী।
সভায় বক্তব্য রাখেন-সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, সাবেক প্রশাসক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সিলেট জজ কোর্টের পিপি মো: নিজাম উদ্দিন, চেম্বারের সাবেক পরিচালক নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম হাদী ছয়ফুল, বসুন্ধরা মোটরর্সের মালিক জুবায়ের রকিব চৌধুরী, সিলেট চেম্বারের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইফতেখার হোসেন সোহেল। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিলেট চেম্বারের পরিচালক আলীমুল এহছান চৌধুরী। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মো: আবুল কাশেম।
সিলেট ব্যবাসায়ী পরিষদ গঠিত প্যানেল অর্ডিনারি শ্রেণী ও এসোসিয়েট শ্রেণী ক্যাটাগরিতে অংশ নিচ্ছে। নবীন ও প্রবীণদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্যানেল থেকে অর্ডিনারি শ্রেণীতে পরিচালক পদে অংশ নিচ্ছেন- মোঃ আব্দুর রহমান জামিল, হুমায়ুন আহমদ, মোঃ নজরুল ইসলাম, আলীমুল এহছান চৌধুরী, খন্দকার ইসরার আহমদ রকি, মোঃ আব্দুস সামাদ, শান্ত দেব, মোঃ রুহুল আলম, জহিরুল কবির চৌধুরী, ফাহিম আহমদ চৌধুরী, দেবাংশু দাস ও মোঃ আবুল হোসেন। এসোসিয়েট শ্রেণীর প্রার্থীরা হচ্ছেন জিয়াউল হক, মোঃ আবুল কালাম, মোঃ রাজ্জাক হোসেন, হাজী সরোয়ার হোসেন ছেদু, মোঃ রিমাদ হোসেন রুবেল ও মোঃ সাহাদত করিম চৌধুরী।
সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের ঘোষিত ইশতিহারে আধুনিক চেম্বার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করে ধরণভিত্তিক ব্যবসায়ীদের বিবরণসহ ডাইরেক্টরি প্রকাশ, ওয়েবসাইট উন্নয়ন প্রয়োজনীয় অ্যাপস সংযোজন ও প্রসার, অধিক সংখ্যক ব্যবসায়ীর অংশগ্রহণে সুবিধার্থে চেম্বারের সদস্য ফি না বাড়ানো, উৎসাহব্যঞ্জক কর্মসূচি গ্রহণসহ ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ২০১৮-১৯সেশনে গৃহিত অনেক উদ্যোগের কথা রয়েছে। সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেল নির্বাচিত হয়ে অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার ঘোষণা দেয়া হয়।
অন্যদিকে,সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের উপস্থিত হয়ে অনেকেই আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান আশঙ্কা করেন, ‘সিলেট চেম্বারের বর্তমান নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড যে ভূমিকা পালন করেছে; তাতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে এই প্যানেলের অভিজ্ঞ স্বনামধন্য ব্যাবসায়ীর মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন বোর্ড, যা প্রশ্নবিদ্ধ। এই নির্বাচন বোর্ড তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে সিলেটের ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে ফাটল ধরালে এর দায়ভার নির্বাচন বোর্ডকে নিতে হবে। নাসির উদ্দিন খান আগামী ১১ নভেম্বর নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেয়ার আহবান জানান। ’
সিলেট চেম্বারের সাবেক প্রশাসক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নির্বাচন বোর্ড অন্যায়ভাবে সাধারণ ভোটারদের হয়রানি করেছে। যেটি তাদের ইখতিয়ারে নেই, সেটিও করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, নির্বাচন বোর্ড একপেশে ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, সিলেটের ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চলছে। যদি ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয় তাহলে এর প্রভাব সরকারের উপরও পড়বে।’
সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের আহবায়ক খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, ‘সমঝোতার কমিটি করার ষড়যন্ত্র করেছিলো একটি পক্ষ। তাতে সফল না হয়ে সিলেট ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থীদের টার্গেট করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ৪ জন ব্যবসায়ীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আদালতে যেতে পারতাম, যাইনি। সিলেটে ব্যবসায়ীদের ভোটের সুযোগ করে দেয়ার জন্য। আমরা আশা করি সিলেটের ব্যবসায়ীরা আগামী ১১ নভেম্বর অর্ডিনারী শ্রেণীতে ব্যালটের ১৫ থেকে ২৬ এবং এসোসিয়েটের ৭ থেকে ১২ পর্যন্ত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত জবাব দেয়ার সুযোগ করে দেবেন।’