৬ ডিসেম্বর ২০২১
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : হাকালুকি হাওরের জলজ বৃক্ষ উজাড় করে চলছে বোরো ধান চাষের প্রতিযোগিতা। প্রায় ৭ মাস পূর্বে মালাম বিলের দক্ষিণ পাশের ‘সাতবিলা’ বিলের উত্তর পাশের পরিবেশ অধিদপ্তরের সৃজিত ব্যাপক জলজ বৃক্ষ নিধন করে স্থানীয় পরিবেশবিরোধীরা। এবার বৃক্ষ নিধনকৃত সেই স্থানের আশপাশের গাছপালাও কেটে অবৈধভাবে প্রভাবশালীরা বোরো ধান চাষ করাচ্ছে।
হাওরের প্রাণপ্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যেখানে গাছ লাগানোর কথা, সেখানে অবৈধভাবে ধান চাষ করায় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে হাওরের প্রাকৃতিক ও সৃজিত জলজ বৃক্ষ। বুধবার সন্ধ্যায় ওয়াইল্ড লাইফের হাল্লা ফরেস্ট ক্যাম্প কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দেবনাথ অবৈধভাবে বোরো ধান চাষে জড়িত ৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে বড়লেখা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। ইতিমধ্যে অভিযোগের তদন্ত করেছে পুলিশ।
অভিযুক্তরা হলেন- উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের কাজিরবন্দ গ্রামের পারভেজ আহমদ, রিয়াজ আলী, নাজিম উদ্দিন, গফুর উদ্দিন, আবদুল হান্নান, জয়নাল উদ্দিন, ছালিয়া গ্রামের মালেক মিয়া, সুরুজ আলী ও মোশাইদ আলী।
হাকালুকির জলজ বৃক্ষ নিধনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু জলজ বৃক্ষ নিধনকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় হাওরের বৃক্ষখেকোরা বীরদর্পে একের পর এক বিলের পাড়ের জলজ বৃক্ষ নিধন করে বোরো ধান আবাদ করছে। এতে হাওরের জীববৈচিত্র্য ও প্রাণপ্রকৃতি মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।
ওয়াইল্ড লাইফ বিভাগের স্থানীয় ক্যাম্প কর্মকর্তা তপন চন্দ্র দেবনাথ জানান, হাওরের বিভিন্ন এলাকায় অসাধুরা সরকারি ভূমির জলজ বৃক্ষ নিধন করে বোরোর আবাদ করছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার হাওরের সরকারি ভূমির গাছ কেটে ধান চাষকারীদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।
বড়লেখা থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, ইতিমধ্যে দুজন পুলিশ অফিসারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে ঘটনার তদন্ত করতে। এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।