৪ ডিসেম্বর ২০২১


মাঠ ভরা সোনালী ধান, কৃষকের বুক ভরা আনন্দ

শেয়ার করুন

শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : এখন অগ্রহায়ণ মাস চলছে। গ্রাম বাংলার চিরাচরিত ঐতিহ্য অনুযায়ী ধান কাটার উৎসব চলছে। এসময় কৃষকরা মাঠের পাকা ধান কেটে গোলা ভরে রাখেন। এখন চোখে পড়ে দিগন্ত বিস্তৃত সোনালি ধানের ক্ষেত। এই চোখ জুড়ানো ধান দেখে কৃষাণ-কৃষাণীর চোখে মুখে হাসির ঝিলিক বয়ে যায়। এবার ভাল ফলনে ভরবে গোলা, চলবে নবান্ন উৎসব। উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ভরা রয়েছে রোপা আমন ধানে। সেই সাথে হাসিতে দুলছে যেন কৃষকদের স্বপ্নও।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশে ভাল শীত পড়েছে, এরই মাঝে ধান কাটা চলছে পুরোদমে। এবার শায়েস্তাগঞ্জে আমন ধানের বেশ ভাল ফলন হয়েছে। তাই, কৃষকরা প্রাণভরা হাসি নিয়েই ধান কাটছেন। শায়েস্তাগঞ্জে এবার ধান কাটার শ্রমিক সংকট থাকলেও ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’ মেশিন দিয়ে ধান কাটতে পারায় শ্রমিকের অভাব টের পাচ্ছেন না কৃষকরা।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর ও ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নে হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটা হচ্ছে। এর ফলে, জমি থেকেই ধান আলাদা করে ঘরে নিয়ে ফিরছেন, কৃষকরা। হারভেষ্টার মেশিন দিয়ে কাটার জন্য প্রতি একর ধান কাটার ১৭শ টাকা খরচ দিতে হচ্ছে। তবে যাদের গরু আছে তারা শ্রমিক দিয়েই ধান কাটাচ্ছেন, যাতে ধানের খড় বেশি পাওয়া যায়, যা গরুর জন্য বেশ ভাল খাবার।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কিছু কিছু এলাকায় কৃষকরা পাকা ধান কেটে আঁটি বেঁধে কিংবা কাঁধে ভার বয়ে নিয়ে আসছেন। কেউ কেউ ধান মাড়াইয়ের কাজ করছেন, আবার অনেকে ধান সিদ্ধ দিচ্ছেন। গ্রামে গ্রামে রাত জেগে ধান সিদ্ধ দিচ্ছেন কৃষাণীরা। দিনে একদিকে তারা ধান রৌদ্রে শুকাচ্ছেন, অন্যদিকে, ধানের খড়ও রোদে শুকাচ্ছেন। রোদে শুকানো ধান কেউ কেউ গোলায় তুলে রাখছেন। কেউ প্রয়োজনে ধান বাজারে বিক্রি করছেন। সবকিছু মিলিয়ে নানান ব্যস্ততায় দিন পার করছেন উপজেলার কৃষিকাজের সাথে জড়িত সকল পরিবার।

মাঠে কয়েকজন কৃষক জানান, সময়মত বৃষ্টি ও জমিতে সার দিতে পারায় ধানের ফলন বেশ ভাল হয়েছে। এবার দামও বাজারে ভাল থাকায় কৃষকরা সঠিক দামে ধান বিক্রি করতে পারছেন। উপজেলার সুতাং বাজারে হালকা শুকনো আমন ধান ১ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে, চিকন ধান প্রতি মণ ১ হাজার ৯ শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার সুরাবই গ্রামের বাসিন্দা বাদল খান জানান, অন্যান্য বারের তুলনায় এবারের ফলন ভাল হয়েছে।

প্রতি একরে ১২/১৩ মণ ধান ফলন হয়েছে, আর বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকরা এবার লাভবান হবেন। তবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সুরাবই অঞ্চলে বেশকিছু জমির ধান বন্য শুকরের উপদ্রবে নষ্ট হয়েছে, পরবর্তীতে গ্রামবাসী মিলে পাহারা দিয়ে কিছুটা ক্ষতির হাত থেকে সেই ধান বাঁচিয়েছেন সেই সব জমির সবগুলো ধান কাটা শেষ হয়েছে।

হারভেস্টার মেশিন চালক মো: ছোটন মিয়া জানান, তারা একদিনে ৫০ থেকে ১০০ একর জমির ধান কাটতে পারেন, তবে একসাথে পুরো মাঠের ধান না পাকায় তুলনামূলক কম ধান কাটতে হচ্ছে।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর জানান, এবার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় আমন ধানের আবাদ হয়েছে প্রায় ২৬শ’ হেক্টর আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার টন। এ পর্যন্ত প্রায় ৫৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। আমরা আশা করছি, ডিসেম্বরের ১০ তারিখের মধ্যে ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। এবার শায়েস্তাগঞ্জে বেশ কিছু কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন কাজ করছে। আমাদের নিজস্ব ৬টি আর বাইরের প্রায় ১৩ টি মেশিন ধান কাটার কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, খাদ্য বিভাগের ধান কেনা এ সপ্তাহেই শুরু হবার কথা। আমরা কৃষকদের তালিকা খাদ্য বিভাগের কাছে দিয়েছি। খাদ্য বিভাগ এখন লটারির আয়োজন করে ধান কেনা শুরু করবে।

শেয়ার করুন