১ ডিসেম্বর ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক : আরমান আহমদ শিপলু। পেশায় তিনি ডাক্তার, নগরীর একটি বেসরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক। সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর বাহিরে তার বড় পরিচয় হলো সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র প্রয়াত বদর উদ্দিন আহমদ কারানের জৈষ্টপুত্র তিনি। এই তো কিছু দিন আগে মহামারী করোনা ভাইরাসে কেড়ে নিয়েছে পিতাকে। সিলেটের প্রয়াত মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান প্রতিবছরই ডিসেম্বর মাসের শুরুতে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। ছুঠে যেতেন নগরীর প্রতিটি পাড়া মহল্লায়। তার চলে যাওয়ার পর নগরবাসী খুব মিস করেন তাকে। কিন্তু কামরানপুত্র নগরবাসীকে পিতার অভাব বুঝতে দিচ্ছেন না। যেকোন দুর্যোগে, দুঃসময়ে পিতারমত করে ছুটে যাচ্ছেন নগরবাসীর কাছে। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তিতে শিপলু ছুটে চলেছেন শীতার্ত মানুষের পাশে, সাধ্যমত করছেন সহযোগীতা।
বিজয়ের মাসের প্রথম দিন থেকেই তিনি শুরু করেছেন নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে অসহায় ও সবিধা বঞ্চিত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ। এই কর্মসূচী চলবে পুরো ডিসেম্বর মাসজুড়ে। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রথম দিনের নগরীর ক্বীনব্রীজ এলাকায় উদ্বোধনী কর্মসূচীর আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লুমিনাস স্যোসাল ক্লাব।
তাঁর ইচ্ছে- বাবার প্রিয় নগরবাসীকে কিছু হলেও বাবার অভাব বুঝতে না দেয়া। আর নগরবাসীও যেন শিপলুকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা। সুবিধা বঞ্চিত নগরবাসী মনে করেন- শিপলু যদি প্রয়াত মেয়রের মত সুখে, দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়ান তবে তাকেই বেছে নেবেন কামরানের উত্তরসূরী হিসেবে।
ডা. শিপলুর পিতা সিলেটের ইতিহাসের প্রথম মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কমরান ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাকা অবস্থায় সিলেট পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার নির্বাচিত হন। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। টানা ১৫ বছর ছিলেন পৌরসভার কমিশনার। মাঝপথে খানিকটা বিরতি ছিল প্রবাসে যাওয়ায়। সেবার নির্বাচন থেকে বিরত ছিলেন। প্রবাস থেকে ফিরে ১৯৯৫ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
২০০২ সালে দু’টি পাতার একটি কুঁড়ির দেশ সিলেট সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে তিনি হন ভারপ্রাপ্ত মেয়র। এর পর ২০০৩ সালে প্রথম সিটি নির্বাচনে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাসে নাম লেখান তিনি।
১/১১’র সময়ে দুইবার কারাবরণ করেন কামরান। ২০০৮ সালে কারাগার থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। সর্বশেষ দুটি সিটি নিবার্চনে ক্ষমতাসীন দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন কামরান।
জীবনের শেষ বয়সে জনপ্রতিনিধি না হলেও নগরবাসীর কাছে তিনি ছিলেন ‘মেয়র সাব’। মৃত্যুর আগের সপ্তাহ পর্যন্তও কাজ করে গেছেন জনগনের জন্য। এই দীর্ঘ জনপ্রতিনিধি থাকাকালিন সময়ে যেমন ছিলেন নগরবাসীর পাশে তেমনি জনপ্রতিনিধি না থাকলেও থেকেছেন মানুষের পাশে।
সবমিলিয়ে অন্য সময় যেভাবে তার পিতা মানুষের পাশে দাড়াতেন তার কিছুটা হলেও পুরন করা চেষ্টা করছেন। আর অবহেলিত মানুষও তাবে পরম আদরে বুকে টেনে নিচ্ছেন। তার পিতার স্মৃতি স্মরণ করে হুপিয়ে হুপিয়ে কাঁদছেন, শান্তনাও দিচ্ছেন শিপলুকে।
এদিকে, শিপলুর এই ছুটে চলাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, সিলেটবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নেয়া সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরান যেখাবে মানুষের প্রয়োজনে ছুটে চলেছেন ঠিক সেভাবেই শিপলু থাকবেন জনগনের পাশে।
বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের জৈষ্টপুত্র ডা. আরমান আহমদ শিপলু আজকের সিলেটকে বলেন, এই নগরবাসী আমার বাবাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন তার ঋণ কোন ভাবেই শোধ করা সম্ভব নয়। বাবা চলে যাওয়ার পর নগরবাসী প্রতিনিয়তই তাকে মিস করেন। বিশেষ করে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষ তাঁর অভাব অনুভব করেন। আমর পক্ষ থেকেও বাবার শূণ্যতা পূরণ করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়, তার পরও আমি নিজের সাধ্যমত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।
আবেগাপ্লুত শিপলু বলেন, আমি যখন নগরীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় যাই, স্থানীয় মুরব্বীরা যখন ভালোবেসে বুকে টেনে নেন, তখন মুরব্বীদের স্পর্শেই যেন আমি আমার বাবার স্পর্শ পাই। মনে একটি প্রশান্তি আসে, কিছু সময়ের জন্য ভূলে যাই আমি এতিম সন্তান। নগরবাসীর কাছে আমার বাবার জন্য দেয়া চাই, রাব্বুল আলামিন যেন জান্নাত নসিব করেন।