২৩ নভেম্বর ২০২১


সিলেটে তৃতীয় ধাপেও ভরাডুবির হতে পারে আ.লীগের

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে সিলেটে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে। এ জন্য দলের নেতারা দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়াকে দায়ী করেছেন। এ দিন সিলেট সদর উপজেলায় ৪টি, কোম্পানীগঞ্জে ৫টি ও বালাগঞ্জের ৬টি ইউপি নির্বাচনের মধ্যে মাত্র ৬টিতে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

বাদবাকি ৯টির মধ্যে স্বতন্ত্র হিসেবে বিএনপি ৫টি, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ২টি এবং জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের একজন করে প্রার্থী বিজয়ী হন। এর মধ্যে সদরের কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের নিজাম উদ্দিনকে হারিয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হওয়া জামায়াতের আবদুল মনাফ।

নির্বাচনে এই ভরাডুবি নিয়ে শাসক দলের তৃণমূলে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। দলের মধ্যে বিভেদ দূর, শৃঙ্খলা ফেরাতে না পারলে ইউনিয়ন পরিষদের তৃতীয় ধাপের নির্বাচনেও ভরাডুবির আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মী সহ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তৃতীয় ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৬টি, জৈন্তাপুরে ৫টি ও দক্ষিণ সুরমায় ৫টি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। এই তিন উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই বিএনপির একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিরণ মিয়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আগেও তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন। জালালাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের ওবায়দুল্লাহ ইসহাক। হাটখোলা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আজির উদ্দিনকে হারিয়ে খেলাফত মজলিসের মাওলানা রফিকুজ্জামান বিজয়ী হয়েছেন।

নির্বাচন নিয়ে কথা হয় সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়েছে ঠিকই। তবে দলের মীরজাফরদের কারণে দল পরাজিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগে ঘাপটি মেরে থাকা মোস্তাকের অনুসারীদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান না করা পর্যন্ত পরাজয়ের পদধ্বনি শুনতেই হবে। এখনই যদি পদক্ষেপ নেওয়া না হয় তাহলে আরও ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বাবুল মিয়াকে হারিয়ে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন আলম স্বতন্ত্র হিসাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তেলিখালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ আলফু বিজয়ী হয়েছেন। আগেও তিনি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন।

ইছাকলস ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কুটি মিয়াকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা সাজ্জাদুর রহমান, উত্তর রণিখাই ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনকে হারিয়ে আওয়ামী লীগের ফয়জুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন। দক্ষিণ রণিখাইয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইকবাল হোসেন ইমাদ বিজয়ী হয়েছেন।

জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফতাব আলী কালা মিয়া বলেন, গ্রামগঞ্জে নেতাকর্মীরা দলীয় সিগনাল মানে না। নিজ নিজ এলাকায় পছন্দের প্রার্থী থেকে যায়। তাই আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের শত্রু হয়ে উঠেছে। তৃণমূল থেকে নির্বাচিতরা কেন্দ্রে গিয়ে নৌকা পান না। পরাজয়ের পদধ্বনির এটি একটি বড় কারণ।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনে নৌকা হারলে কিংবা জিতলে সরকারের কিছু যায়-আসে না। গ্রামগঞ্জে নৌকা না দিয়ে ওপেন থাকলে দল আরও সুসংগঠিত হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বালাগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা মো. আব্দুল মুনিম পূর্ব গৌরীপুরে আওয়ামী লীগের হিমাংশু দাসকে হারিয়ে বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান মুজিব, পশ্চিম গৌরিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আবদুর রহমান মাখন, বোয়ালজোড় ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আনহার মিয়া, দেওয়ানবাজারে বিএনপির নাজমুল আলম, পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শিহাব উদ্দিন নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান মফুর বলেন, আমি ৪ বার ইউপি চেয়ারম্যান ছিলাম, তাই আমার অভিজ্ঞতা হলো ইউপি নির্বাচন দলীয় প্রতীকে করা হলেও দলের দায়িত্ব অকার্যকর। আঞ্চলিকতা ও সামাজিক দুর্বলতা তো আছেই। দলীয় প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ক্রাইটেরিয়া না থাকায় পলিটিক্যাল কোনো স্কোর ছাড়াই ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ যে কেউ প্রার্থী হয়ে যাচ্ছেন। আবার তৃণমূলে নির্বাচিতরা কেন্দ্রে গিয়ে বদল হয়ে যান। এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও জটিল হয়ে যায়।

শেয়ার করুন