১২ নভেম্বর ২০২১


খননের পর ভাঙছে নদীর তীর

শেয়ার করুন

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চল এলাকার কৃষকদের বহুল আকাঙ্খিত লাঘাটা নদী পুন:খননের কাজ তিন বছরে সম্পন্ন হয়েছে। খনন কাজের পর নদীর বাঁধের উপর রোপিত হয়েছে গাছের চারা। বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছেন কৃষকরা। তবে লাঘাটা নদীতে পতিত ছড়া ও খালের মুখে কালভার্ট না থাকায় স্থাপিত পাইপ পানির প্রবল স্রোতে দেবে যাচ্ছে। এতে নদীর বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর নদী খনন শুরু হয়। ২০১৮ সনে লাঘাটা নদী খননের জন্য সার্ভে কাজ সম্পন্ন হয়। নানা জটিলতায় খনন কাজ বিলম্বে শুরু হয়। ১১ দশমিক ৮শ’ মিটার ও ১২ দশমিক ৮৩০ মিটার মিলিয়ে ২৪ দশমিক ৬৩০ মিটার পুন:খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এসএএসআই এন্ড ইশরাত এন্টারপ্রাইজ জয়েনভেঞ্চার ৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নি¤œাঞ্চল এলাকা ও পতনউষার, শমশেরনগর এলাকায় অপর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীর পুন:খনন কাজ করে।

কৃষকরা জানান, লাঘাটা নদীকে ঘিরে উপজেলার আদমপুর, আলীনগর, শমসেরনগর ও পতনঊষার, মুন্সীবাজার ইউনিয়ন একাংশ এবং রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন একাংশের কৃষকরা কৃষি চাষাবাদ ও প্রাকৃতিক মাছ আহরণ করেন। কৃষি ও মাছ আহরনের মধ্যদিয়ে অসংখ্য পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। ফি বছর নদী ভাঙ্গন, পাহাড়ি ঢলে পতনঊষারের কেওলার হাওরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নদীটি মনু নদীতে পতিত হওয়ায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার পানি মনু নদীতে গড়িয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে লাঘাটা নদী ভরাট, ঝোপজঙ্গল, পলিবালি ও নানা অত্যাচারে সংকোচিত হয়ে খালে পরিণত হয়। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিস্কাশন হতে দীর্ঘ সময় লাগে। এতে জলাবদ্ধতায় ধানী জমি ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় কৃষকদের। বোরো, আউশ, আমন, সবজি ক্ষেত হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়েন। এ থেকে উত্তরণের জন্য পানি নিস্কাশনে লাঘাটা নদী খনন ও সংস্কারের জন্য দাবি জানিয়ে সভা, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন।

কমলগঞ্জে হাওর ও নদী রক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সদস্য সচিব তোয়াবুর রহমান তবারক, মৌলভীবাজার কৃষক সংগ্রাম সমিতির নেতা রমজান আলী বলেন, আন্দোলনের ফলে লাঘাটায় পুন:খনন হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে ছড়া ও খালের মুখে কালভার্ট স্থাপন না করে অপরিকল্পিতভাবে পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। এতে প্রতিটি পাইপ দেবে যাচ্ছে এবং বাঁধের ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এসব স্থানে কালভার্ট স্থাপনের দাবি জানান তারা।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, গত বছর থেকে সরকারি উদ্যোগে নদীর খনন কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হওয়ায় এলাকার মানুষের উপকারে আসবে। তবে পাইপ দেবে যাওয়ার বিষয়টি পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে।

শেয়ার করুন