৭ নভেম্বর ২০২১


সিলেটে ধর্মঘটে ‘আটকা পড়েছেন পর্যটকরা’

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : ধর্মঘটে সিলেটে আসা বিপুল সংখ্যক পর্যটক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দুরপাল্লার যানবাহন না থাকায় সিলেটে আটকা পড়েছেন তারা। সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার রাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে শুক্রবার ভোরে পৌঁছেন তারা। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সিলেটে এসেও পছন্দনীয় দর্শনীয় স্থান দেখতে পারেননি কেউ কেউ। সর্বোপরি এখন পরিবার পরিজন নিয়ে বাড়ী ফেরা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন তারা। কেউ ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারলেও অনেকেই ব্যর্থ হয়েছেন। কেউ বা আবার অতিরিক্ত ভাড়ায় মাইক্রোবাসে রিজার্ভ করে ছুটছেন গন্তব্যে। এরপরও আটকে পড়া পর্যটকের সংখ্যা কম নয়। আটকা পড়া পর্যটকরা কিছু হোটেল মালিকদের অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এছাড়া ধর্মঘটে নিরাপদ ও নিরবিচ্ছিন যাতায়াতে ট্যুরিস্ট পুলিশের ভুমিকার সমালোচনা করেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সিলেটসহ সারাদেশে বাস মালিক শ্রমিকদের ধর্মঘট চলছে। কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই শুক্রবার সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী বাস। রাতের ঘোষণায় সকালে হুট করে বাস ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছেন পর্যটন নগরী সিলেটে আসা পর্যটকরা। অনেকের হাতের টাকা ফুরিয়ে যাওয়ায় হোটেল ভাড়া পরিশোধ করতে বাড়ী থেকে টাকা আনাতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন।

জানা যায়, শুক্রবার ছুটির দিন বলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিলেটে আসতে শুরু করেন পর্যটকরা। আবার শুক্রবার পুরোদিন সিলেটের বিভিন্ন পর্যন্ট কেন্দ্র ঘুরে কেউ কেউ রাতেই ঢাকা কিংবা ভিন্ন জেলায় বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন আর কেউবা একদিন থেকে পর শনিবার চলে যান। কিন্তু বৃহস্পতিবার সিলেটে যারা এসেছেন তারা বাসে ফিরতে পারেন নি। এছাড়া হঠাৎ করে ধর্মঘটের কারণে ঘুরতে এসে তারা না পেরেছেন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখতে, না পেরেছেন যথাসময়ে বাড়ি ফিরতে।

এদিকে শুক্রবার থেকে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার বাস-ট্রাক ধর্মঘটের সময় বাড়ানো হয় আজ রোববার পর্যন্ত ফলে আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব পর্যটক। পর্যটন কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা বাসে করে ঘুরতে আসেন। কিন্তু এই শুক্রবারে খুব কম সংখ্যক পর্যটক ঘুরতে এসেছেন। যদি ধর্মঘট না থাকতো তাহলে প্রচুর পর্যটক আসতেন বলে জানান তারা।

রাজশাহী থেকে বিছনাকান্দি বেড়াতে আসা জনৈক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র বলেন, অনেকদিন ধরে বিছনাকান্দি ও সাদাপাথর আসবো বলে আসা হয়নি। শুক্রবার ভোরে বাসে করে সিলেটে এসে পৌঁছাই। কিন্তু গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছি। এখন বাড়ি ফিরে যেতেও পারছি না। এদিকে হাতের টাকাও ফুরিয়ে গেছে হোটেল ম্যানেজারকে রুম ভাড়া কম রাখার অনুরোধ জানালে তারা আমার সাথে অসৌজন্যমুলক আচরণ করেন। ফলে বাধ্য হয়ে কয়েক যানবাহন পরিবর্তন করে গন্তব্যে পৌঁছতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রওয়ানা দিয়েছি।

এমন অভিযোগ নওগা থেকে বেড়াতে আসা জনৈক চাকুরীজীবি যুবকের। তিনি জানান, পরিবার নিয়ে এসে সিলেটে এবার বড় বিপদে পড়েছি। এই কঠিন সময়ে সিলেটের হোটেল মালিক ও ট্যুরিষ্ট পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা কোন সহযোগিতা পাইনি। অথচ পর্যটন নগরী হিসেবে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ^জুড়ে একটা খ্যাতি রয়েছে।

সিলেট হোটেল এন্ড গেস্টহাউস ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নওশাদ আল মুক্তাদির বলেন, এই সপ্তাহে সিলেটে তেমন পর্যটক আসেনি। যারা এসেছেন তারা হয়তো ট্রেনে রিটার্ন টিকেট নিয়ে এসেছেন। কেউ আবার ফ্লাইটে আবার কেউ পরিবার নিয়ে রিজার্ভ গাড়ীতে এসেছেন। তাই আটকা পড়া পর্যটকের সংখ্যা খুব একটা হওয়ার কথা নয়। ঠিক কতজন পর্যটক আটকা পড়েছেন এর সঠিক সংখ্যা আমাদের কাছে নেই। তাই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছেনা।

ট্যুরিষ্ট পুলিশ সিলেট জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম বলেন, ধর্মঘটের কারণে সিলেটে পর্যটক আটকে পড়ার বিষয়ে আমার কাছে কোন তথ্য নেই। কেউ যোগাযোগ করলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম।

শেয়ার করুন