২ নভেম্বর ২০২১
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : দলের জন্য নিবেদিত থাকার পরেও মনোনয়ন না পেয়ে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু দাস রানা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সাইফুল জাহান চৌধুরীর সহোদর সদর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাবেদুল আলম চৌধুরী সাজু। ইতিমধ্যে তারা সংশ্লিষ্ট রিটানিং কর্মকর্তা কাছে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের চমক ও তিন ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীর বঞ্চনা নিয়ে উপজেলা জোড়ে তোলপাড় চলছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাদের পক্ষে একাট্টা হয়েছেন।
তৃণমূল আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে দলীয় বর্ধিত সভার মাধ্যমে তালিকা তৈরি হয়। মনোনয়ন বঞ্চিত এই তিন ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠানো তালিকায় প্রথম ছিল। আলোচনার শীর্ষে থাকা ১১ নম্বর গজনাইপুর ইউনিয়নে মনোনয়ন পান অনেকটাই অপরিচিত মুখ আওয়ামী লীগ নেতা সাবের আহমেদ চৌধুরী। দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হন বিগত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল।
অন্যদিকে ৭ নম্বর করগাঁও ইউনিয়নে মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন আলোচনার শীর্ষে থাকা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু দাস রানা। ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতি করা এই নেতা বাদ পড়েন মনোনয়নের দৌড়ে। ওই ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন অনেকটা অপরিচিত মুখ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বজলুর রহমান।
দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হন বিগত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল আলম চৌধুরী সাজু। এখানে মনোনয়ন পেয়ে চমক দেখান পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।
মনোনয়নবঞ্চিত পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু দাস রানা বলেন, ‘দলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগ স্বীকার করেছি। অনেক ক্ষতি হয়েছে পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু অপেক্ষাকৃত অপরিচিত একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাই দলের লোকজন আমার পক্ষে একাট্টা হয়েছেন। বাধ্য হয়ে নির্বাচন করতে হচ্ছে। আশা করি জনগণ সঠিক মূল্যায়ন করবে।’