১ নভেম্বর ২০২১


সৌন্দর্য হারাচ্ছে বেরি লেক

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পানি নোংরা ও ভরাট হয়ে সৌন্দর্য হারাচ্ছে মৌলভীবাজার পৌর শহরের শাহ মোস্তফা (র.) সড়কের বেরি লেক। লেকের পাশে ছাগলের হাট ও ট্রাকস্ট্যান্ডের কারণে জলাধারটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লেকের সঙ্গে আগে শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা মনু নদীর সংযোগ ছিল। ভূমিকম্পের প্রভাবে লেকটি নদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য ১৫ একর আয়তনের লেকটি ভরসা।

বেরিরচর এলাকার পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও এখন লেকের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে এলাকার নোংরা ও আবর্জনাযুক্ত পানিও এখানে আসে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বর্জ্য-আবর্জনা লেকে ফেলছে মানুষ। তবে লেকের চারদিকে চলছে অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ। খোঁড়াখুঁড়ির মাটি বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে লেকে যাচ্ছে। এভাবে লেকটি ভরাট হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লেকের উত্তর-পূর্ব দিকে পানির মধ্যে আবর্জনা ভাসছে। লেকের শাহ মোস্তফা সড়কের কাছেই ট্রাকস্ট্যান্ড। সেখানে কাপড় ও ট্রাক ধোয়ামোছা করছেন লোকজন। গাড়ির নোংরা পানি পড়ছে জলাধারে। পাশাপাশি লেকের দুই পাশে বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে। এসব আবর্জনার মধ্যে আছে চিপস ও চানাচুরের প্যাকেট, গৃহস্থালির নানা বর্জ্য, ডাবের খোসা ও পলিথিন।

এখন লেকের দক্ষিণ পাশে সোম ও বৃহস্পতিবার ছাগলের হাট বসে। হাটের বর্জ্য ও ছাগলের মলমূত্র লেকের পানিতে পড়ে। বেরিচরের দক্ষিণ পাড়ে শাহ মোস্তফা সড়ক এলাকায় বছর কয়েক আগেও প্রচুর গাছপালা ছিল। তখন পাড়টি সংরক্ষিত ছিল। কয়েক বছরে আগে জলাধারের পাশে শাহ মোস্তফা সড়ক সম্প্রসারণের সময় অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আ স ম সালেহ সুহেল বলেন, আইনি ব্যবস্থা নিয়ে অবিলম্বে জলাধার দখলমুক্ত করতে হবে। তবেই আগের অবস্থা ফিরে পাবে জলাধার।

শহরের বাসিন্দা কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মুহিবুল ইসলাম বলেন, শহরের সব ময়লা ফেলে লেকটি ভরাট করা হয়েছে। তারপর ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে জলাধারের পাশে অবৈধ বাড়িঘর গড়ে তোলা হয়েছে।

পৌরসভার মেয়র মো. ফজলুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক লেকটিকে রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিলের মতো রূপ দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পৌরসভার উদ্যোগে আবেদন জানিয়েছি। ট্রাকস্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে সাবেক মেয়রের সময়ে। ছাগলের হাট ও স্ট্যান্ড সরানোর জন্য বিকল্প স্থান খুঁজছি। লেকের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে।

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, হাতিরঝিলের আদলে জলাধারটি রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। আমাদের পাঠানো আবেদন গ্রহণ করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।

শেয়ার করুন