২৪ অক্টোবর ২০২১
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি : সিলেট-তামাবিল সড়কের দুই পাশ থেকে প্রতিদিনই চুরি হচ্ছে গাছ। রাতের আঁধারে একটি চক্র গাছগুলো কেটে নিয়ে গেলেও নীরব রয়েছেন বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট এলাকার বিট কর্মকর্তা। সবশেষ শনিবার রাতে সড়কের হরিপুর বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে বন বিভাগের মূল্যবান গাছ চুরি করে পাশের একটি স’মিলে রাখা গাছ এলাকাবাসী জব্দ করেছেন। কিন্তু এত কিছুর পর তিনি বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করেননি। এই কান্ডে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হরিপুর-গাছবাড়ি রাস্তা সংলগ্ন আব্দুল হামিদের মালিকানাধীন স’মিলটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন আনোয়ার হোসেন। সড়কের চুরি হওয়া বনবিভাগের গাছের টুকরো পাওয়া যায় তার মিলে। পরে স্থানীয়রা এগুলো জব্দ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাহেদ আহমদ বলেন, আমার বাড়ির সামনে সড়কে লাগানো বনবিভাগের তিনটি গাছ রাতে কোনো এক সময় কেটে নিয়ে আনোয়ারের মিলে রাখা হয়েছে। পরে বিষয়টি দেখে আমরা গাছগুলো জব্দ করেছি। বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি হওয়া গাছ এ স’মিলে আসে এমটাই অভিযোগ উঠেছে। এদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র চেষ্টা চালাচ্ছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ বলেন, হরিপুর এলাকায় সড়ক ও জনপথের সড়কে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বনবিভাগের আওতায় বিভিন্ন উপকারভোগী সমিতির সদস্যদের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ করা হয়। গাছগুলো বিভিন্ন সময় চুরি হচ্ছে। বিষয়টি বন বিভাগকে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, এই বিটের বিট কর্মকর্তা এই এলাকার বাসিন্ধা হওয়ায় রহস্যজনক কারনে তিনি নিরবতা পালন করছেন, এজন্য এমনটি হয়েছে। অবৈধ গাছ জব্দ করা বিট কর্মকর্তার দায়িত্ব, কিন্তু তার উদাসিনতায় জনগনকেই এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে।
তবে স’মিল মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি মিলটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। কয়েকদিন হতে মিলটির বিদ্যুতের ট্রান্সমিটার নষ্ট হওয়ায় তা বন্ধ রয়েছে। তাই মিলে মানুষ না থাকায় কে বা কারা গাছের টুকরোগুলো রেখে গেছেন আমি কিছুই জানি না।
আর জৈন্তাপুরস্থ সারী বিট ও সারী রেঞ্জের রেঞ্জার সাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি শুনে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আগামীকাল গিয়ে এই গাছ জব্দ করব। এঘটনার সাথে আমার কোন যোগসূত্র নেই।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ তৌফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। আমার বিট অফিসারও আমাকে বলেনি। খোঁজ নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।