১ জুলাই ২০২৩


সিলেটে ভয়াবহ বন্যার পদধ্বনি

শেয়ার করুন

খলিলুর রহমান : সিলেটে ভয়াবহ বন্যার পদধ্বনি। অব্যাহত রয়েছে বৃষ্টিপাত। উজান থেকে নেমে আসা মেঘালয়া রাজ্যের পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিপাতে বিভাগের সিলেট ও সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যার আশংকা আরো জোরদার হচ্ছে। ইতোমেধ্যে সবকটি নদনদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল ছাড়াও সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

সিলেটের গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর,. কোম্পানীগঞ্জ ও সিলেট সদর উপজেলায় দেখা দিয়েছে বন্যা। পনি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় রাতেই অনেকের বাড়িঘর ও অনেক এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  ইতোমেধ্যেসবকটি উপজেলায় ধানের রোপন ক্ষেতের সব বীজতলা বানের পানিতে তলিয়ে গেছে।

শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। কখনো থেমে থেমে আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে চলমান বৃষ্টিপাত আরো তিন চার দিন অব্যাহত থাকবে এবং একই সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারীবর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আমাদের গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি জানান,উপজেলায় বন্যার আশঙ্কা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত কয়েকদিনে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। উপজেলার হাওরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে অনেক এলাকায় মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছেন। ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে উপজেলা প্রশাসন।

কানাইঘাট থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, উপজেলার সুরমার উত্তর এলাকার সবকটি ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে বন্যা। এসব ইউনিয়ন সুরমা বেল্টে থাকায় লোভাসহ পাড়াড়ি নদীগুলোর পানি ও সুরমার পানি একত্রিত হয়ে বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। উপজেলা সদরে সুরমার নদীর পানি বিপদসীমার উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পানি বৃদ্ধি ব্যাহত রয়েছে। সিলেট নগরে সঙ্গে থাকা উপজেলা বুরহানুদ্দীন সড়ক ও দরবস্ত সড়ক ডুবুডুবু অবস্থায় রয়েছে। যে কোনে সময় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশংকা রয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয়া পর্বত থেকে নেমে আসা অব্যাহত ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ সদর, ইসলামপুর পূর্ব, ইসলামপুর পশ্চিম, রণিখাই ও তেলীখাল ইউনিয়নে দেখা দিয়ে বন্যা। কোম্পানী গঞ্জ উপডজেলার সীমান্তবর্তী সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ, হাটখোলা ও মোগলগাঁও ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে বন্যা।

এদিকে, সুরমা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সুরমাপারে থাকা সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহর, তালতলা, ঘাসিটুলা দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা প্রভৃতি এলাকা বানের পানিতে তলিয়ে গেছে।

আমাদের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জে ১৫০ মিলিমিটার ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মেঘালয় রাজ্যের গহারো পহাড় ও চেরাপুঞ্জিতে ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের যাদুকাটা, চেলা, সুরমাসহ সবকটি নদ-নদী ও হাওরে পানি আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিরাই উপজেলার পুরাতন সুরমা নদীর পানি শূন্য দশমিক ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে ৬ দশমিক ১৬সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৩৯ সেন্টিমিটার নিচে।

জেলার তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পানি ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে শূন্য দশমিক ৪৪ সেন্টিমিটার কমে ৬ দশমিক ৫৬ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপদসীমার ১ দশমিক ৪৯ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে সুনামগঞ্জের হাওর ও সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষ বন্যার আশঙ্কায় উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।

জেলার ছাতক পয়েন্টে পানি বেড়েছে দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার। বর্তমানে বিপদসীমার দশমিক ৪৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে অর্থাৎ ৮ দশমিক ৫৭ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে সুরমার পানি।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ পয়েন্টে শূন্য দশমিক ২৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৪২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে অর্থাৎ ৭ দশমিক ৩৮ সেন্টিমিটার উচ্চতায় সুরমা নদীর প্রবাহিত হচ্ছে।

রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৯১ মিলি মিটার, সিলেটে ৯৯ মিলি মিটার, ময়মনসিংহে ৭৪ মিলি মিটার, রংপুরে ৪৫ মিলি মিটার, বরিশালে ২৫ মিলি মিটার, খুলনায় ৫ মিলি মিটার, চট্টগ্রামে ১ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পরবর্তীকালে ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার অবস্থা বলা হয়, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। আর বর্ধিত পাঁচ দিনের অবস্থায় আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এ সময় এ অঞ্চলের কিছু নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

শেয়ার করুন