২১ অক্টোবর ২০২১


দীর্ঘ ১০ বছরের কর্মযজ্ঞের স্বীকৃতি

শেয়ার করুন

এম. সাইফুর রহমান তালুকদার : ২০১১ সালের ২৪শে অক্টোবর একটি ছোট্ট কক্ষ, দুটি ল্যাপটপ আর সীমিত জনবল দিয়ে ‘সিলেটের তথ্য বিশ্বজুড়ে’ শ্লোগান নিয়ে পরীক্ষামুলক যাত্রা শুরু করে আজকের সিলেট ডটকম। এর ৭ মাস পর ২০১২ সালের ৪ জুন সিলেটের একটি অভিজাত রিসোর্টে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল পথ চলা।

তৎক্ষালীন সময়ে অনলাইন গণমাধ্যমের তেমন একটা গ্রহণযোগ্যতা ছিলনা। বিডি নিউজ, বাংলা নিউজ ও বাংলা খবর ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে তেমন কোন এক্টিভ নিউজপোর্টালও ছিলনা। এই কঠিন সময়ে অনলাইন সাংবাদিকদের সাংবাদিক হিসেবে কেউ স্বীকার করতেও চাইতেন না। এমন পরিস্থিতিতেই আমরা পা পা করে এগিয়ে গেছি। এরই মধ্যে সরকার একটি অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করে। যার শর্ত দেশের সিংহভাগ গণমাধ্যমের পক্ষেই পুরণ করা ছিল প্রায় অসম্ভব। এমন কঠিন সময়ে আত্মপ্রকাশ ঘটে অনলাইন নিউজপোর্টাল মালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ অনলাইন নিউজপোর্টাল এ্যসোসিয়েশন-বনপা’র। বনপার জোড়ালো ভূমিকায় খসড়া নীতিমালা স্থগিত করে নতুন করে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি করা হয়। এই নতুন কমিটির প্রস্তাবিত নীতিমালা চুড়ান্ত হওয়ার পরই মূলত অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকতা স্বীকৃতি পাওয়া শুরু হয়।

এর পর ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীল তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সচিবালয়ে পিআইডির সম্মেলন কক্ষে বনপার সাথে এক সভার আয়োজন করেন। এই সভায়ই অনলাইন গণমাধ্যম মালিকরা প্রস্তাব দেন সম্প্রচার কমিশনার ঘটনের আগেই যাতে নিউজ পোর্টালগুলিকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়। এর পর সরকার অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোকে নিবন্ধন দেয়ার জন্য আবেদন আহবান করে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষনার পর ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর আমরা আজকের সিলেট এর নিবন্ধনের জন্য তথ্য অধিদফতরে আবেদন করি। আবেদনের পর শুরু হয় একের পর এক তদন্ত। কখন পুলিশের বিশেষ শাখা, কখনো ডিজিএফআই, কখনো এনএসআই। এই পর্যন্ত কতবার যে তদন্ত হয়েছে তা বলা ঠিক মুশকিল হয়ে যাবে।

নিবন্ধনের আবেদন করার প্রায় ৫ বছর পর দফায় দফায় তদন্ত শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রলাণয়ের এক জিওতে নিবন্ধনের জন্য অনুমতি দেয়া হয় আজকের সিলেটকে। জিওতে তালিকায় এক নাম্বারে প্রিয় পোর্টালের নাম থাকার অনুভূতিটাই আলাদা, যা কখনো লিখে প্রকাশ করা যাবেনা। এর পর সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১৭ অক্টোবর সিলেট বিভাগের প্রথম নিউজপোর্টাল হিসেবে আজকের সিলেট এর নামে নিবন্ধন সনদ ইস্যু করে তথ্য অধিদফতর। সম্পাদক ব্যস্ত থাকায় থাকায় ১৯ অক্টোবর আমি নিজেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করলাম। এর মধ্য দিয়েই দীর্ঘ ১০ বছরের কর্মযজ্ঞের সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া গেল, একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন হলো, শুরু হলো এক নতুন পথ চলা।

২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছরের আমাদের এই পথ চলা খুব সহজ ছিলনা। একদিকে সরকারী বিজ্ঞাপন নেই, বেসরকারী বিজ্ঞাপনেও তেমন কোন সাড়া নেই। অনেকটা যেন, ‘নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’র মত অবস্থা। অন্যদিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে অনেক রক্তচক্ষুকেও উপেক্ষা করতে হয়েছে। এতে করে অনেক আপনজন পর হয়ে গেছেন, আর অনেক অপরিচিতজনও শুভাকাংখী হয়েছেন। এসব আমাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। আমরা আমাদের আদর্শ ও পাঠকদের কাছে দায়বদ্ধতার জায়গায় অটল আছি।

তবে আশার কথা হচ্ছে, একের পর এক বাঁধা আর প্রতিকূলতার মধ্যেও অনেক শুভাকাংখি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বিজ্ঞাপন দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে পাশে থেকেছেন, সাহস যুগিয়েছেন, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তাদের প্রতিও আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। কিছু বিশেষ মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। এর মধ্যে রয়েছেন সরকারী কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা। উনাদের নিয়ে অন্য একসময় বিস্তারিত লিখব।

আমরা আবারো অঙ্গিকার করছি, অতিতের মত আগামী দিনেও সকল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল থেকে নির্যাতিত নিপিড়িত মানুষ এবং দেশ ও জনগনের পক্ষে আজকের সিলেট কথা বলবে ইনশাআল্লাহ।

আমাদের আগামী দিনের পথ চলায় আপনাদের সকলের সহযোগীতা চাই।

(লেখক : প্রধান সম্পাদক, আজকের সিলেট)

শেয়ার করুন