১৮ অক্টোবর ২০২১


‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : ‘জীবন ও মৃত্যু সমান, বেঁচে থাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আমার এ মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’। এমন নোট লিখেই আত্মহত্যা করেছেন সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী জয়দেব চন্দ্র দাস।

গত শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানী ঢাকার নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার ২নং রোডের একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জয়দেব সদ্যই এমবিবিএস পাস করেন। মাত্র পঁচিশ বছর বয়সেই কেনই বা আত্মহত্যা করলেন এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁর গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের দক্ষিণ কুমারপাড়ার সালন্দায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। কেননা মৃত্যুর আগে তিনি শরীরে ইনজেকশন নেন। এ ছাড়া মৃতদেহের পাশে একাধিক সিরিঞ্জ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার বাম হাতে একটি চিরকুটও মিলেছে, যেখানে তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় বলে উল্লেখ করেছেন। তারপরও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের ময়না তদন্ত করা হচ্ছে।’

কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন? এমন প্রশ্নে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার পারিপার্শ্বিক ও চিরকুট লেখা থেকে সন্দেহ করা হচ্ছে এটি প্রেমঘটিত কারণে হতে পারে। সে বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।’ পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, যে সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে, সেটি আসলেই জয়দেব লিখেছেন কিনা, তা নিশ্চিত হতে রাসায়নিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিকে, নিহতের মামা বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ‘জয়দের শান্ত প্রকৃতির ছেলে। কারো সঙ্গে কখনো ঝগড়া বিবাদে জড়ায়নি। তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ঢাকা আসি। সবেমাত্র ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করেছে। ঢাকায় চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি বিসিএস পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করছিল। গত দেড় মাস হলো নিকুঞ্জের বাসায় ভাড়া ওঠে।’ প্রসঙ্গত, নিকুঞ্জের যে বাসায় জয়দেব থাকতেন, সেখান থেকে চারদিন ধরে তিনি বাইরে বের হননি। শনিবার রাতে তার কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। গতকাল রোববার তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

শেয়ার করুন