২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১


সিলেটে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ১১ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে যাচ্ছে। শারদীয় দুর্গা উৎসব সামনে রেখে সিলেটে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। এই সময়ে দম নেওয়ার ফুরসত নেই কারিগরদের। এবার সিলেট জেলায় ৬০৫টি মন্ডপে পূজা আয়োজিত হবে। তার মধ্যে সার্বজনীন ৫০টি, পারিবারিক ১৫টি পূজোর আয়োজন হবে। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সার্বজনীন ৫০টি ও পারিবারিক ১৫টি পূজো অনুষ্ঠিত হবে।

লাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সার্বজনীন আয়োজনে ৫০টি ও পারিবারিক আয়োজনে ১৫টি পূজো অনুষ্ঠিত হবে। সিলেট সদর উপজেলায় সার্বজনীন ৫৮টি। দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ২১টি ও পারিবারিক ১টি।

গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ৫৮টি ও পারিবারিক ৩টি। বালাগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ৩০টি ও পারিবারিক ২টি। কানাইঘাট উপজেলায় সার্বজনীন ৩৮টি। জৈন্তাপুর উপজেলায় সার্বজনীন ২৩টি। বিশ্বনাথ উপজেলায় সার্বজনীন ২৩টি ও পারিবারিক ২টি।

গোয়াইনঘাট উপজেলায় সার্বজনীন ৩৬টি। জকিগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ৪টি। বিয়ানীবাজার উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ৩৭টি, পারিবারিক ৯টি। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ২৭টি। ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ৩৮টি। ওসমানীনগর উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ২৭টি ও পারিবারিক ৮টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

দুর্গা উৎসব এলে এসব মৃৎশিল্পীর কদর বেড়ে যায়। বছরের অন্যান্য সময় তারা কৃষিকাজসহ বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। করোনাকালে অনেকটা মানবেতর জীবন যাপন করেছেন তাঁরা। তবে এখন ২৪ ঘণ্টা প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত আছেন। সময়মতো কাজ শেষ করতে হবে বলে পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও বাড়তি চার-পাঁচজন শ্রমিক নিয়ে কাজ করছেন।

মৃৎশিল্পী দেবাশীষ মণ্ডল বলেন, ‘সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে কাজের গতি বেড়ে গেছে। এই পুরো মাসে দম ফেলানোর ফুরসত নেই আমাদের। তবে বছরের অন্য সময়ে মাটির কাজ থাকে না। এই এক-দেড় মাসের কামাই দিয়ে পুরো বছর সংসার চলে। মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা আগের মতো নাই। যে কারণে আমাদের এই পেশায় টিকে থাকা কঠিন।’

বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে আসা শিল্পীরা বলেন, এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের আর্থিক অনেক ক্ষতি হয়েছে; যা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জন ঘোষ বলেন, এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনে পূজা আয়োজন করার পদক্ষেপ নিয়েছি। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা আয়োজনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত বলেন, এবার দেবী দুর্গা আসছেন ঘোড়ায় চড়ে। স্বামীরগৃহে ফিরবেন পালকিতে চড়ে। করোনাভাইরাসের কারণে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা পালন করতে হবে। আমাদের প্রত্যেকেই সরকারি নির্দেশনা মেনে পূজা করতে হবে।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার বিএম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা থাকবে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটতে দেয়া হবে না।

শেয়ার করুন