১০ সেপ্টেম্বর ২০২১


আর কখনো নির্বাচন করবেন না শফি চৌধুরী

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : জীবনে আর কখনো নির্বাচনে আসবো না। তবে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবো। পরাজয়ের পর সিলেট-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি শফি চৌধুরী এ মন্তব্য করেছেন। সদ্য শেষ হওয়া সিলেটের এই উপনির্বাচনে প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ হঠাৎ করে এসে দল ছেড়ে প্রার্থী হয়েছিলেন। ছিলেন সুদূর আমেরিকায়। ওখানে থেকেই শুনলেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের পরিবারের কাউকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না। ফিরে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তখনও তিনি ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য।

সিলেটের এই উপনির্বাচনও বর্জন করেছে বিএনপি। কোনো প্রার্থী দেয়নি। কিন্তু শফি চৌধুরী দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কার হয়েছেন। নির্বাচনের শুরুতেই তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তার এই মন্তব্য সিলেটে বিতর্কের জন্ম দেয়। এরপর অবশ্য চুপ হয়ে যান তিনি। একা একা নির্বাচনী মাঠ চষে বেরিয়েছেন। প্রচারণার সময় প্রশাসন কিংবা ভোটের পরিবেশ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে, শেষ হওয়া নির্বাচনের পর তিনি মুখ খুলেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন আর কখনো নির্বাচন করবেন না।

শফি চৌধুরী বলেন, ‘১৯৮৬ সালে আমি রিকশা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৫ দলের প্রার্থী মরহুম পীর হাবিবুর রহমানের সঙ্গে বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু তৎকালীন এরশাদ সরকারের নির্দেশে মাত্র কয়েকশ’ ভোটে পীর হাবিবকে বিজয়ী দেখানো হয়। এরপর থেকে সংসদ সদস্য না হয়েও ব্যক্তিগতভাবে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখি। পরবর্তীতে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। নির্বাচিত হওয়ার পর দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বাস্তবায়নসহ এই অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগসহ জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে গেছি।’

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় জনসাধারণের চাপে এবারে উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে যেখানেই গেছি, সেখানেই হাজার হাজার মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। কিন্তু ভোটের ফলাফলে আমি হতবাক। এবারে ইভিএমে ভোট হওয়ায় অনেক কেন্দ্রে আমার ভোটাররা অভিযোগ করেন যে তারা ফিঙ্গার দেয়ার পর কে বা কারা তাদের ভোট কনফার্ম করে দেয়। যা সম্পূর্ণ অনৈতিক কাজ।’

এই আসনের বিএনপি’র নেতাকর্মীরা তাকে কোনো প্রকার সহযোগিতা করেনি উল্লেখ করে শফি চৌধুরী জানান, ‘উল্টো তারা জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে। যা বিএনপি’র রাজনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে আমি দীর্ঘদিন এই দলের পিছনে অর্থ, শ্রম ও সময় দিয়েছি। যার সাক্ষী এই অঞ্চলের মানুষ।

শফি চৌধুরী এই উপনির্বাচন তার জীবনের শেষ নির্বাচন উল্লেখ করে বলেন, তিনি আর কখনো নির্বাচনে আসবেন না। তবে, এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে, সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে তিনি মানুষের পাশে থাকবেন।’

শেয়ার করুন