১১ ডিসেম্বর ২০১৭
রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : বিশাল টিলার অর্ধেক প্রায় কাটা শেষ। রাত-দিন যন্ত্রদানব এস্কেভেটারের (খনন মেশিন) ছোবলে ছিন্নভিন্ন হচ্ছে টিলার বুক। সবুজ ঘাসের নিচে লাল মাটির গভীরতা। মাটির পরতে পরতে যেন রক্তের দাগ। ‘মুক্তিযোদ্ধার টিলা’ নাম হলেও এর মাটি দিয়েই ভরাট চলছে শাহজালাল ফার্টিলাইজার (সার) কোম্পানি লিমিটেডের ‘কলাবাগান আবাসিক এলাকা’। গত ১৫ দিনে ১২শ’ থেকে ১৩শ’ ট্রাক মাটি কেটে নেয়া হয়েছে।
সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ডিএম ফায়ছলের নেতৃত্বে টিলা কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ থাকলেও তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তরভাগ ইউনিয়নের ইন্দেশ্বর ভূমি অফিসের অধিনে এ ইউনিয়নের খাসমহল যাদুরগুল এলাকার জমি। যাদুরগুল খাস মহলে ২ হাজার একরেরও বেশি জমি সরকারের ‘ক’ খতিয়ানভুক্ত। শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের বেশিরভাগ জমি রাজনগর উপজেলার আওতাধীন। এ সার কারখানার আবাসিক এলাকার নিচু জমি ভরাটের জন্য কাটা হচ্ছে টিলার মাটি।
আবাসিক এলাকার পার্শ্ববর্তী ‘মুক্তিযোদ্ধা তাহের আলীর টিলা’ নামের এ টিলা স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ও নির্মাণ কোম্পানিগুলোর দালালরা জোর করে কেটে নিচ্ছেন। এদের ভয়ে কেউ কিছু বলছেন না। টিলার উপরে বসবাসকারী ব্যক্তিরাও রয়েছেন ঝুঁকির মুখে। যে-কোনো সময় ধসে যেতে পারে তাদের বাড়িঘর।
যাদুরগুল খাস মহল এলাকায় বসবাসকারী ভূমিহীনদের দায়েরকৃত কয়েকটি মামলা হাইকোর্ট ও জজ কোর্টে রয়েছে। এসব মামলায় এ এলাকায় সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এস্কেভেটর দিয়ে টিলার মাটি কেটে ১০-১২ টি ট্রাক্টরে বোঝাই করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ১৫ দিনে ১২শ’ থেকে ১৩শ’ ট্রাক মাটি কেটে নেয়া হয়েছে। প্রতি ট্রাক দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে টিলার নিম্নাংশ কেটে ফেলায় উপরে বসবাসকারী ১৩টি পরিবার হুমকির মুখে। যে-কোনো সময় ধসে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতির ডিএম ফায়ছলের নির্দেশে টিলা কাটা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানালেও তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমরা মাটি ক্রয় করছি। যারা ট্রাক্টরের মালিক, তারাই মাটি সাপ্লাই দিচ্ছে। কী ভাবে আনছে কোথা থেকে আনছে জানতাম না। আমি শোনার পর টিলার মাটি সাপ্লাই দিতে নিষেধ করেছি।
ওই এলাকার বাসিন্দা ভূমিহীন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য সচিব বিলাল হোসেন মিন্টু বলেন, প্রভাবশালীরা জোর করে টিলা কেটে নিচ্ছে। বাধা দিলে বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে
দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। টিলার উপরে বসবাসকারীরা হুমকির মুখে রয়েছেন। টিলার নিচের মাটি কটে ফেলায় যে-কোনো সময় ধসে যেতে পারে। আমরা ভয়ে আছি।
এ ব্যাপারে শাহজালাল সারকারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুল হক বলেন, বিষয়টি জানা নেই। টিলা অ্যাডমিনকে বলে দেয়া হয়েছে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তিনি সার
কারখানা জিএম অ্যাডমিনকে পদক্ষেপ নিতে বলব।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান পাভেলকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখছি।
(আজকের সিলেট/১১ ডিসেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)