৮ সেপ্টেম্বর ২০২১


সিলেটে ই-কমার্সে বিনিয়োগ করায় কয়েক’শ গ্রাহকের নগদ অ্যাকাউন্ট বন্ধ

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে টাকা বিনিয়োগ করে সিলেটে বিপাকে পড়েছেন ডাক বিভাগের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’র কয়েক শ গ্রাহক। কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে সিলেটসহ সারাদেশে কয়েক হাজার নগদ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তবে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন- তাদেরকে বিপাকে ফেলেছে নগদ কর্তৃপক্ষ। এটি তাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। প্রয়োজনীয় টাকা ‘ব্লক’ হওয়ায় তারা মারাত্মক বিপদে পড়েছেন। বিষয়টি সমাধানের দাবিতে সিলেট বিভাগীয় ডাকঘরের সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জড়ে হয়ে বিক্ষোভ করেন। এসময় তারা বিষয়টি দ্রুত সামধানের দাবি জানান।

জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ শপ ও আলাদিনের প্রদীপসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি ‘নগদ’র মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করে পণ্য কেনার আকর্ষণীয় ‘ডিসকাউন্ট অফার’ দেয়। তা দেখে সিলেটের কয়েক শ নগদ গ্রাহক সিরাজগঞ্জ শপ ও আলাদিনের প্রদীপসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে পণ্য কিনতে টাকা বিনিয়োগ করেন। অনেকে লাখ টাকার উপরেও বিনিয়োগ করেন।

তবে কিছু গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে না পেরে শর্ত অনুযায়ী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সিরাজগঞ্জ শপ ও আলাদিনের প্রদীপ গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে শুরু করে। গ্রাহকেরা যেসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পণ্য কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো সেসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই টাকা ফেরত দিচ্ছে। তবে নগদ সেবার মাধ্যমে যাঁদের টাকা ফেরত আসছে, তাঁদের অনেকের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে নগদ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেনের আখ্যা দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে সিলেটে আটকে গেছে কয়েক শ গ্রাহকের টাকা, ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

এমন ভুক্তভোগী গ্রাহকের একজন নগরীর করিম উল্লাহ মার্কেটের এক ব্যবসায়ী। তিনি জানান, নগদ দিয়ে সিরাজগঞ্জ শপ ও আলাদিনের প্রদীপে কেনাকাটা করলে ২০-২৫ শতাংশ ছাড় পাওয়া যায়- এমন অফারের ভিত্তিতে কয়েকদিন আগে তিনি নগদ দিয়ে ১ লাখ টাকার পণ্য কেনার অর্ডার করেন। কিন্ত পরবর্তীতে সংকটের কারণে পণ্য দিতে না পেরে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান নগদ অ্যাকাউন্টে টাকা ফেরত দেয়। কিন্তু টাকা দেয়ার পরপরই গত ১ সেপ্টেম্বর সেই ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় নগদ কর্তৃপক্ষ। ফলে তিনি সেই টাকা তুলতে পারছেন না।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে টাকা বিনিয়োগকারী এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ২৫ হাজার ও ২১ হাজার করে দুটি অর্ডারে ৪৭ হাজার ২৪ টাকা বিনিয়োগ করেন। পরে পণ্য দিতে না পারায় তাঁর নগদ অ্যাকাউন্ট টাকা ফেরত দেয় প্রতিষ্ঠান। কিন্তু টাকা আসার পরদিনই তাঁর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় নগদ। ফলে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি।

এদিকে গত ৪ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে নগদ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকার লক্ষণ পরিলক্ষিত হওয়ায় কিছু হিসাবের তথ্য একাধিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ। একই সঙ্গে হিসাবগুলোর লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ‘নগদ’র ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনক লেনদেন নজরে আসার পরই এমন পদক্ষেপ নেয় নগদ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে যাচাই শেষে সবার অ্যাকাউন্টই খুলে দেয়া হবে এবং প্রত্যেকে টাকাও পাবেন।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বিষয়ে গ্রাহকদের উদ্বেগের কিছু নেই। দ্রুতই বিষয়টি সমাধান হবে। তবে যদি কেউ সত্যিই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শেয়ার করুন