১ সেপ্টেম্বর ২০২১


তাহিরপুর উপজেলা হাসপাতাল যেন নিজেই রোগী!

শেয়ার করুন

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : তিন বছর আগে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নিত হয়। এ লক্ষ্যে ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারি নির্মাণ করা হয় নতুন একটি ভবন। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় আজও চালু হয়নি ৫০ শয্যার কার্যক্রম। ফলে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এই উপজেলার সাধারণ মানুষ।

এদিকে ১৯৭৮ সালে নির্মিত ৩১ শয্যাবিশিষ্ট পুরাতন ভবনেই চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। সেখানেও রয়েছে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল সংকট। মেডিকেল অফিসারের সংকট থাকায় প্রায়ই উপ-সহকারি মেডিকেল অফিসার দিয়ে চালাতে হচ্ছে জরুরি বিভাগ। তাছাড়া গাইনি চিকিৎসক না থাকায় বিঘ্নিত হচ্ছে মহিলাদের চিকিৎসাসেবা। রয়েছে আধুনিক চিকিৎসার যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের অভাব। ফলে ব্যহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা, বাড়ছে ভোগান্তি।

স্থানীয়রা বলছেন, তাহিরপুরে চিকিৎসক পদায়ন করা হলেও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উপজেলাটি হাওরবেষ্টিত হওয়ায় এখানে আসা চিকিৎসকদের মধ্যে দ্রুত বদলি হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটিতে মোট ১২৪ পদের বিপরীতে ৬৮ পদই শূন্য। প্রধান কর্মকর্তা ছাড়া আবাসিক চিকিৎসক, মেডিসিন, গাইনি, সার্জারি ও এ্যানেসথেসিয়া পদগুলো খালি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। ১৩ জন চিকিৎসকের বিপরীতে রয়েছেন ৬ জন। এর মধ্যে প্রেষণে রয়েছেন দুইজন মেডিকেল অফিসার। তাছাড়া ২০ জন নার্সের মধ্যে কর্মরত আছেন ৯ জন। তৃতীয় শ্রেণির ৭১ জন কর্মচারীর বিপরীতে রয়েছেন ৩৬ জন। অপরদিকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংকট মোকাবেলা করা হচ্ছে আউটসোর্সিয়ের ১৮ জন কর্মচারীর মাধ্যমে।

এদিকে তিন বছর আগে হাসপাতালটির জন্য একটি জেনারেটর ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ানের অভাবে এটি এখনও চালু করা যায়নি। নেই ডেন্টাল, ল্যাব ও রেডিওটেকনোলজিস্ট। এক্স-রে মেশিনটিও বিকল এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। ফলে চাইলেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষারও ব্যবস্থা নেই এখানে। ফলে লোকজন বাধ্য হয়ে স্থানীয় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বাড়তি টাকা খরচ করে রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা করছেন। একমাত্র নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটিও বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে।

উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের বুরহান মিয়া জানান, ‘এখানে মহিলাদের জন্য কোন গাইনী ডাক্তার নেই। যেকারণে জরুরি হলেও মহিলারা চিকিৎসা নিতে পারছেন না।

তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের মধ্য তাহিরপুর গ্রামের শাহিদ মিয়া বলেন, এই হাসপাতালে কোনও রোগের চিকিৎসা নিতে আসলেও পরীক্ষা করাতে হয় হাসপাতালের বাইরে গিয়ে। ফলে নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। আর এ জন্য গুণতে হয় বাড়তি টাকা।’

স্থানীয় সমাজকর্মী আবুল হোসেন বলেন, ‘এটি উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল অথচ এখানে রক্ত পরীক্ষারও কোনো ব্যবস্থা নেই। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কি হতে পারে!’

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমদ শাফি জানান, ‘হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নিত হলেও প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় এর কার্যক্রম শুরু হয়নি। তাছাড়া বর্তমান চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির জন্য প্রতিমাসেই চাহিদা পাঠানো হয়ে থাকে।’

শেয়ার করুন