১৪ আগস্ট ২০২১


ওসমানীনগর ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

শেয়ার করুন

ওসমানীনগর প্রতিনিধি : ওসমানীনগরে সমাজসেবামুলক সংগঠন ওসমানীনগর ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি’র ৬ষ্ট প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

শনিবার সংগঠনের সহ-সভাপতি রাজন আহমেদ’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রুমেল আহমেদ এর সঞ্চালনায় ওসমানীনগরের দয়ামীর বাজার কর্ণেল এমএজি ওসমানী মিলনায়তনে কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভা ও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওসমানী নগর ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি’র সম্মানিত উপদেষ্টা সিকন্দর পুর আলহাজ্ব আব্দুল হাফিজ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব রিপন সুত্রধর, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওসমানী নগর ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সৈয়দ শাহজাহান আলী, সাহবুব খাঁন, আব্দুল মুক্তাদির, সংগঠনের সাবেক আহবায়ক নাদিম হুসাইন দিপু,
নবজাগরণ রক্তদান ও সমাজকল্যাণ সংস্থা এর আহবায়ক ফয়সল আহমেদ মিলন,সদস্য সচিব রাহিন আহমেদ,প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শাহ জামিল ও যুগ্ম আহবায়ক সাব্বির আহমেদ।

কার্যকরী কমিটির সহ সভাপতি জাহিদ হাসান ভিপি, জুনাঈদ হোসাইন, সাজনা বেগম, সুমনা বেগম, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক কামিল আহমদ, ফাহিম আহমদ চৌধুরী,সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ তারেক আহমেদ, অর্থ সম্পাদক হিফজুর রহমান ফাহিদ,দপ্তর সম্পাদক রনি পাল।
সদস্য আল-আমিন জিসান, নাঈমুর রহমান, সাইদুর রহমান, আরকান মিয়া, জাহেদ আহমেদ, রাহিম আহমেদ, মিরাজ আহমেদ, ইসমাইল আহমদ প্রমুখ।

স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরা বলেন, ‘রক্ত দিন জীবন বাঁচান! মানুষ তো মানুষেরই জন্য। যখন কোন ব্যাক্তির রক্তের প্রয়োজন হয়, তখন তারা বোঝে রক্ত খুঁজে পাওয়া কতটা কষ্ঠের কাজ। শত কষ্ঠের পর যখন সেই অসহায় রুগীর জন্য এক ব্যাগ রক্ত খুঁজে পাওয়া যায়, তখন তারা খুবই আনন্দিত হয়। যথাসময়ে রক্ত খুঁজে পাওয়া কঠিন হলেও, সবাই যখন একত্রে রক্ত খোঁজার কাজ করলো তখন খুব সহজেই রক্ত খুঁজে পাওয়া যায়।’

ইসলামের দৃষ্টিতে স্বেচ্ছায় রক্তদানে অন্য মানুষের মূল্যবান জানপ্রাণ রক্ষা পায় এবং নিজের জীবনও ঝুঁকিমুক্ত থাকে। তাই রক্তদানের ব্যাপারে ইসলামে কোন বিধিনিষেধ নেই। অথচ দেশের হাজার মানুষ প্রতিবছর রক্তের অভাবে মৃত্যুবরণ করছে। রক্তদাতার একব্যাগ মূল্যবান রক্তদানের মাধ্যমেই মৃত্যু পথযাত্রী অন্য মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।

কেউ যদি স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন, তাহলে একজন বিপদগ্রস্ত মুমূর্ষ রোগীর জীবন যেমন বাঁচবে, তেমনি রক্তদাতা ও রক্তগ্রহীতার মধ্যে গড়ে উঠবে রক্তের বন্ধন। বিপন্ন মানুষের জীবনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পবিত্র কোরানে ঘোষিত হয়েছে, আর কেউ কারও প্রান রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানবগোষ্ঠিকে রক্ষা করল।

সমার্থবান রক্তদাতাও পরোপকারের মাধ্যমে দৈহিক ও মানসিক দিক দিয়ে ইসলামি মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে সুস্থ, সবল ও নিরাপদ থাকেন। এ জন্য বিশ্বমানবতার উপকার ও জীবন রক্ষার্থে হযরত মোহাম্মদ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘তোমাদের কেউ তার অন্য ভাইয়ের উপকার করতে সক্ষম হলে সে যেন তা করে।’ (মুসলিম)

মানবজীবন রক্ষায় স্বেচ্ছায় রক্তদান ইসলাম পরিপন্থী নয়। স্বেচ্ছায় রক্তদান সব ধরনের জনকল্যালমূলক কাজের শীর্ষে অবস্থান করছে। একজন সুস্থ-সবল মানুষ তিন থেকে চার মাস অন্তর রক্ত দান করতে পারেন, এতে শারীরিক কোন ক্ষতি হয়না। ১৮ থেকে ৫৫ বছর পর্যন্ত যেকোন সুস্থ ব্যক্তিই রক্তদান করতে পারবেন। রক্ত দেওয়ার সময় যদি কোন রোগ-ব্যাধি থাকে এবং কোন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক চলে, তবে ঐ মুহূতে রক্ত না দেওয়াই ভাল। স্বেচ্ছায় রক্তদানের জন্য পুরুষের নূন্যতম ওজন ৫০ কেজি বা ১০০ পাউন্ড এবং নারীর ৯৫ পাউন্ড হওয়া বাঞ্ছনীয়।

স্বেচ্ছায় রক্ত দেওয়ার জন্য অনেক মানুষের আগ্রহ আছে। কিন্ত সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। বাংলাদেশে প্রতিবছর পাঁচ লক্ষ ব্যাগ রক্তের দরকার হলেও এরমাত্র ২৫ শতাংশ স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতার মাধ্যমে আসে। ৫০ শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট ডোনার বা আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনের মাধ্যমে এবং বাকি ২৫ শতাংশ পেশাদার রক্তদাতার কাছ থেকে সংগৃহীত হয়।

শেয়ার করুন