৫ আগস্ট ২০২১
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : যাদুকাটা ও বৌলাই নদীর ভাঙনে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার নদী ভাঙন আতংকে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় কয়েক বছরে মসজিদ, মন্দির, স্কুল, আবাদি জমি, ফলের বাগান, বাঁশ ঝাড়, ঘর-বাড়িসহ অনেক স্থাপনা চলে গেছে নদীর গর্ভে।
এরপরও এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় উপজেলার বালিজুড়ি, উত্তর বড়দল, বাদাঘাট ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের বর্তমানে নদীর তীরবর্তী ভাঙ্গন কবলিত মানুষগুলো উৎকণ্ঠায় মধ্যে জীবন যাপন করছে।
যাদুকাটা নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে ৪টি ইউনিয়নের নদীর পাড়ে গ্রামের বাসিন্দারা। তারা দ্রæত নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।
মাসুক মিয়া, শরিফ মিয়াসহ এলাকাবাসী ও সচেতন মহল, জানান, পাহাড়ি ঢলে স্রোতের তোড়ে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে যাদুকাটা ও বৌলাই নদী তীরবর্তী গ্রাম গুলোতে আঘাত হানে। যাদুকাটা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে ১৯৮৮সালে পাহাড়ি ঢলে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মাহারাম গ্রাম বিলীন হলে দুশতাধিক পরিবার উদ্বাস্তু হয়ে পাশেই বারেকটিলাসহ বিভিন্ন গ্রামে আশ্রয় নেয়। নদী ভাঙন প্রতিরোধে যত দ্রæত সম্ভব সিসি বøক স্থাপনের মাধ্যমে ভাঙ্গন কবলিত গ্রামগুলোকে রক্ষা করার জন্য উদ্যোগী হবেন বলে মনে করছেন তারা।
নদী ভাঙ্গন কবলিত ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, উপজেলার যাদুকাটা নদী ও বৌলাই নদী দিয়ে পাহাড়ি ঢলে আসা প্রবল বেগে স্রোতের তোড়ে ক্রমেই গ্রাস করেছে সোহালা, মিয়ারচর, পাঠানপাড়া, বিন্নাকুলি, লাউড়েরগর, মোদেরগাও, বড়টেক, দক্ষিণকুল, মাহতাবপুর, পিরিজপুর, নয়াহাটি পাতারী, বারুন্কা, লোহাছড়া তেরওর জালাল, ফাজিলপুর, চিসকা, বীরনগড়, ধুতমাসহ ৫০টি গ্রাম। অব্যাহত নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে মসজিদ,মন্দির,স্কুল,বাজার,ঘরবাড়ি ও কৃষির উপর নির্ভরশীল মানুষগুলোর আবাদি জমি। ফলে নদীর পাড়ের প্রায় ২হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। এছাড়াও ক্রমাগত ভাঙনে হুমকিতে রয়েছে অনেকের আবাদি জমি ও বসতভিটা। ইতোমধ্যে ঐসব গ্রামগুলোর তিনশত বিঘার বেশি আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।
ধুতমা গ্রামের কালাম মিয়া জানান, নদী ভাঙ্গনে আমার বাড়িটি এখন ভাঙ্গনের পথে। নদীতে বাড়িটি বিলীন হলে আমার আর যাওয়ার জায়গা থাকবে না। আর ভাঙনে আবাদি জমি,ফলের বাগান, বাঁশ ঝাড়, জমিজমা হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি।
ভাঙ্গনের শিকার ফাজিলপুর গ্রামের নজির মিয়া বলেন, এই নদী ছোট ছিল ভাঙতে ভাঙতে এখন নদী বিশাল আকার ধারণ করেছে। আমরা এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন মহলের কাছে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কোন প্রকার সুফল আজও পাইনি।
দক্ষিণকুল গ্রামের বাসিন্দা খালেদা বেগম বলেন, ২০০৪ সাল থেকেই নদী ভাঙন শুরু হয়। গত কয়েক বছরে বৌলাই নদীর অব্যাহত ভাঙনে কবল থেকে কিছুই বাদ যাচ্ছে না। আমার বাড়িটিও এখন ভাঙতে শুরু করেছে। কিন্তু সরকারি ভাবে এই দুর্ভোগ লাগবে কোন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন জানান, সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের প্রচেষ্টায় আমার ইউনিয়নে কয়েকটি বাঁধের কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবির বলেন, নদী ভাঙন প্রতিরোধে ওইসব এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান, নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো ভাঙ্গন থেকে কি ভাবে রক্ষা করা যায় তার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সবার সাথে কথা বলব।
সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা মো. শাসসুদ্দুহা বলেন, তাহিরপুর উপজেলার নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।