৪ আগস্ট ২০২১


এবার রোগী ভর্তির তথ্যেও গড়মিল!

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া তথ্য আর বাস্তব অবস্থার মিল পাওয়া যেন আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো সৌভাগ্যের ব্যাপার! এটি নতুন নয়। অনেক পুরানো। প্রায়ই এনিয়ে গণমাধ্যমে ঝড় ওঠে। এবার সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের দেয়া তথ্য আর বাস্তব অবস্থার আকাশ পাতাল পার্থক্য পাওয়া গেল। গড়মিলের এই বিষয়টি হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা নিয়ে।

মঙ্গলবার সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে দেয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, সকাল ৮টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেয়া করোনা রোগীর মোট সংখ্যা ৪৬৬। এরমধ্যে সিলেটে ৩৩৭, সুনামগঞ্জে ৬২, হবিগঞ্জে ৪৫ ও মৌলভীবাজারে ২২ জন।

এ তথ্যের সাথে বাস্তবতার ফারাক বলতে গেলে প্রায় আকাশ-পাতাল। সিলেট বিভাগের অপর তিনটি জেলার সিভিল সার্জন ও সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের পরিচালক বা আবাসিক মেডিকেল অফিসারের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত সিলেট বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ভর্তিকৃত করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬২৭। প্রায় ১৬১ জন বেশি!

মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার জালাল উদ্দিন মুর্শেদ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৭৬ জন। তাদের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলা হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৬৫। এ হাসপাতালে কোভিড- আক্রন্তদের জন্য মোট শয্যাই আছে ৬৫টি। এরমধ্যে আবার ৫টি আইসিইউ। সবগুলোই পূর্ণ। অথচ স্বাস্থ্য পরিচালকের দেয়া তথ্য মতে এ জেলায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা মাত্র ২২!

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক ডাক্তার আনিসুর রহমান জানান, ১শ’ সিলেটের মধ্যে অর্ধশত’র মত পূর্ণ। অথচ এ জেলার সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. শামসুদ্দিন জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপতালসহ উপজেলা হাসপাতালগুলোতে মোট ভর্তিকৃত করোনা রোগীর সংখ্যা ৯৬ জন। এরমধ্যে সদর হাসপাতালে ভর্তিকৃতের সংখ্যা ৬৫ জন। আর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ভর্তি আছেন ৩১ জন। অথচ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী এ জেলায় মোট ভর্তিকৃত করোনা রোগীর সংখ্যা ৬২!

একই অবস্থা হবিগঞ্জের ক্ষেত্রেও। এ জেলার সিভিল সার্জন ডাক্তার একেএম মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, এ জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৪৫ জন। এরমধ্যে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৭ ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ১৮ জন। কেবল মাত্র এই জেলার ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মিলেছে।

এদিকে সিলেট জেলায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী ৩৩৭ জন হলেও বাস্তবতা আরও কঠিন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কেবল মাত্র ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৪১০। এরমধ্যে ওসমানীতেই আছেন ৩০৪ জন। আর শামসুদ্দিনে ১০৬ জন। মঙ্গলবার রাতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অস্থায়ী উপপরিচালক ডাক্তার মাহবুব হোসেন ও শামসুদ্দিন হাসাপতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সৈয়দ নাফি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর বাইরে নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছেন ১শ’ জন রোগী। এছাড়া রাগীব রাবেয়া মেডিকেল, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপতাল, সিলেটের ১৩টি উপজেলা হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতাল ক্লিনিকগুলোর হিসাব যোগ করলে সংখ্যাটা যে আরও অনেক বেশি, তা আর বলার প্রয়োজনই নেই।

এসব বিষয় নিয়ে বরাবরই কর্তারা যে বক্তব্য দেন তা কেবলই গতানুগতিক। তা জানা আর না জানা একই কখা। তবু সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাক্তার হিমাংশু লাল রায় বলেছেন, আমাদের হিসাবটা সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ওদের হিসাব রাতের। তাই এটা হতে পারে।

তবে তার এ বক্তব্য সমর্থন করছেন না সচেতনরা। তারা বলছেন, তাহলে হয়ত ১০/২০ বা ৩০/৪০ জনের পার্থক্য হলে মেনে নেয়া যেত। দেড়/দু’শো জনের পার্থক্য মানে কোথাও কোন ঘাপলা আছে। সেই ঘাপলাটা খুঁজে বের করবে কে? এমন প্রশ্ন এখন সিলেটের সচেতন মানুষের।

শেয়ার করুন