১৭ জুলাই ২০২১
ডেস্ক রিপোর্ট : বৃহস্পতিবার রাত তখন প্রায় সাড়ে ১২টা। করোনা উপসর্গ নিয়ে সিলেটের কমিউনিটি বেইজড হসপিটালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ৫৬ জন রোগী। এর মধ্যে ১৯ জন ভর্তি ছিলেন আইসিইউতে। কিন্তু হঠাৎ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয় অক্সিজেন সংকট। তাই নির্দেশ দেওয়া হয় দ্রুত সকল রোগী স্বজনরা নিজ জিম্মায় অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নিতে। মুহূর্তে শুরু হয় স্বজনদের আহাজারি আর নিরুপায় স্বজনদের দিগ্বিদিক ছুটোছুটি। আইসিইউ না পেয়ে অক্সিজেন সংকটে ঘটে প্রাণহানির ঘটনা। অন্তত ৯ জন রোগীর স্বজনদের সাথে সিলেট ভয়েসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে এমন অভিযোগ করেন তারা।
মারা যাওয়া রোগীর নাম কাঞ্চন বিবি বলে জানিয়েছেন অপর এক রোগীর স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী। কাঞ্চন বিবি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে কাঞ্চন বিবির মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
খাসিয়ারা বেগম নামের এক রোগীর ছেলে মিজানুর রহমান রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার মা ভর্তি ছিলেন আইসিইউ ৬ নম্বর বেডে। হঠাৎ করে হাসপাতাল থেকে আমাদের জানানো হয় অক্সিজেন সংকট। তাই রোগী নিজ জিম্মায় বের করে নিতে হবে। তা না হলে কোন রোগীর সমস্যা হলে তারা দায়ী থাকবে না। পরে আমরা উপায়ন্তর না পেয়ে একটি অ্যাম্বুলন্সে করে মাকে নিয়ে সিলেটের সকল হাসপাতাল ঘুরে ওসমানী মেডিকেলের সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি করেছি। পরে সকাল ১০টার দিকে আইসিইউ পেয়েছি।’
আর কোথাও আইসিইউ কিংবা সাধারণ বেড না পেয়ে চাচাকে নিয়ে বাড়িতেই ফিরতে হয়েছে মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার বারমর্দন এলাকার মোশাররফ।
তিনি সিলেট ভয়েসকে বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের জোর করে বের করে দিয়েছে। আমরা নগরীর কোথাও কোন আইসিইউ কিংবা সাধারণ বেড না পেয়ে অবশেষে আমার চাচা জিতুমিয়াকে নিয়ে বাড়িতে চলে এসেছি। এখন সিলিন্ডার দিয়ে অক্সিজেন চলছে। একজন রোগী মারা গেছেন আমাদের সামনে। আমার চাচা অবস্থাও খারাপ।
অবশ্য হাসপাতালের উপ ব্যবস্থাপক মো. মামুন নিজেও মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছেন বলে স্বীকার করে বলেন, আমি শুনেছি বের হওয়া রোগীর মধ্যে একজন কোথাও আইসিইউ না পেয়ে পুনরায় হাসপাতালে ফিরে এসেছিলেন। তখন হাসপাতালের বাইরে থাকতেই মৃত্যু হয়েছে।
কিন্তু অক্সিজেন সংকট দেখা দেওয়ার আগে রোগীদের বিনয়ের সাথে আগাম সতর্ক করা হয়েছিলো জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে করোনা উপসর্গের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। গতকাল সড়কে যানজট থাকার কারণে এখানে যেসব কোম্পানী অক্সিজেন সরবরাহ করে, হঠাৎ করে তারা তাদের অক্সিজেন সরবরাহের নির্ধারিত সময় পরিবর্তন করে। এমতাবস্থায় পরের দিন সকালে অক্সিজেন সংকট হতে পারে তাই আমরা রোগীদের স্বজনদের আগে থেকে বিনয়ের সাথে জানিয়েছিলাম। তখন সকল রোগীর বিলও বাকি থাকে। এবং রোগীদের আমরা বের হয়ে যেতে সহায়তা করেছি। এসময় আইসিইউ বেডে ভর্তি থাকা ১১ জন এবং সাধারণ বেডে ভর্তি থাকা ২ জন মিলে মোট ১৩ জন রোগী বের হয়ে যান। কিন্তু অক্সিজেন সংকট হয়েছিলো বিষয়টা তা না। সংকটের সম্ভাবনা থাকায় রোগীদের জানালে তারাই বের হয়ে যান।’
এদিকে সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, ‘এরকম ঘটনা আমার জানা নেই। কেউ আমাদের জানায়নি। তাছাড়া এ হাসপাতাল আমার আওতায় না।’
অপরদিকে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. সুলতানা রাজিয়া এ ব্যাপারে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।