১২ জুন ২০২১


ভাঙা হচ্ছে না ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ভবন-মার্কেট

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সম্প্রতিক সময়ে আটদিনে সিলেটে সাত দফা ভূমিকম্পের পর বড় ধরনের ভূমিকম্প ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় নগরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও মার্কেট বন্ধ রেখে এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পর্যবেক্ষণ শেষে তারা বলেছেন, ভবনগুলো না ভেঙে সক্ষমতা বাড়ানো হবে। তবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দু’একটি ভবন ভাঙা হতে পারে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, পর্যবেক্ষণে ভবনগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে এগুলো ভাঙার বদলে সক্ষমতা বাড়িয়ে কাজে লাগানোর দিকে গুরুত্ব দেয়া হবে।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার পৃথক দুটি দল পর্যবেক্ষণ করেছে। আর শুক্রবার একটি দল কাজ করেছে। প্রতি দলে চারজন করে বিশেষজ্ঞ সদস্য রাখা হয়েছে। আগামীতে তা আরও বাড়ানো হবে। এসব পরীক্ষায় ভবনগুলোকে কীভাবে সক্ষমতা বাড়িয়ে কাজে লাগানো যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। ভাঙার দিকে আমরা কোনো অবস্থাতেই যেতে চাই না। কিন্তু যেসব ভবন একেবারেই দুর্বল বা কোনোভাবে কাজে লাগানো সম্ভব না সেগুলো ভাঙা ছাড়া হয়তো কোনো উপায় থাকবে না। তা নাহলে আশা করছি, কোনো ভবন ভাঙা হবে না।

তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ইতোমধ্যে যেসব মার্কেট চিহ্নিত হয়েছে সেগুলো আমরা পরীক্ষা করছি। পর্যায়ক্রমে সব মার্কেট-ভবন পরীক্ষা করা হবে।

প্রথম দিনই নগরের বন্দরবাজারের মধুবন সুপার মার্কেট, সুরমা মার্কেট, সমবায় ভবন, সিটি সুপার মার্কেট, জিন্দাবাজারের মিতালি ম্যানশন, রাজা ম্যানশন এবং দরগাহ গেট এলাকার হোটেল আজমেরীতে পরীক্ষা চলে। এমনকি শুক্রবার একটি পর্যবেক্ষণ দল নগরের দুইটি ভবনে পরীক্ষা করেছে।

যেগুলো পরীক্ষা হয়েছে সেগুলো থেকে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্নে জহির বিন আলম বলেন, ‘এখনো পরীক্ষা চলছে। আমরা এগুলোর ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন তৈরি করব। তবে বিশেষ কিছু না হলে ভাঙার কোনো পরিকল্পনা নেই, এটি বলা যায়।’

এর আগে গত ২৯ মে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পাঁচ দফায় ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে সিলেট। পরদিন ৩০ মে ভোররাতে ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়। পরে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে নগর কর্তৃপক্ষ থেকে বড় ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা হিসেবে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। চিহ্নিত করা হয় ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও মার্কেট।

নির্দেশ দেয়া হয় এসব ভবন-মার্কেট ১০ দিন বন্ধ রাখার। কিন্তু ৯ দিনের মাথায় গত সোমবার সন্ধ্যায় ফের দুই দফা ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে সিলেট নগর। ফাটল ধরা দেয় রাজা জিসি হাইস্কুলের ‘কামরান ভবন’ ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ভবনে। এতে আবারও নড়েচড়ে বসেছে সিসিক কর্তৃপক্ষ। গ্রহণ করছে নতুন পদক্ষেপ।

শেয়ার করুন