১১ জুন ২০২১
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : সুদিন ফিরছে মৎস্য সংশ্লিষ্টদের। প্রাকৃতিক জলাভূমি থেকে হারিয়ে যাওয়া মাছগুলোকে বলা হয় বাংলামাছ। এই মাছগুলোর মধ্যে রয়েছে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ, ঘনিয়া প্রভৃতি। এখন হ্যাচারির আধুনিক প্রযুক্তিতে এই বাংলামাছগুলো প্রকৃতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে নিরন্তর। মাছের মধ্যে রেনু ও পোনার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মৎস্যখামারিরা হ্যাচারির মাধ্যমে এই রেনু পোনা মাছে নিয়ে তাদের ফিশারিতের নিয়ে বড় করে ভালো মুনাফা অর্জন করে থাকেন। মৌলভীবাজারের রেনু-পোনার চাহিদা উল্লেখ করা মতো।
শেরপুরের মাছচাষি সৈয়দ আতাউর রহমান বলেন, আমার প্রায় ১৮ কিয়ার (বিঘা) জায়গায় আমি মাছের খামার করেছি। সেখানে দেশি প্রজাতি মাছ চাষাবাদ করি। মনোসেক্স তেলাপিয়ার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এগুলো অধিক লাভজনক। সব ধরনের মাছের মধ্যে রেনু পোনার মার্কেট খুব ভালো। তিনি কয়েক বছর ধরে মৌলভীবাজারের অন্যতম হ্যাচারি ব্র্যাক ফিশারিজ থেকে রেনু এবং পোনা সংগ্রহ করে ভালো মুনাফা লাভ করেছেন বলে জানান।
অপর মাছচাষি সুরজিত দাস বলেন, আমার প্রায় ১২টি পুকুর রয়েছে। বেশিভাগ পুকুরেই আমি বাংলা মাছের রেনু এবং পোনা সংগ্রহ করে মাছ চাষ করছি। মধ্যে কিছুদিন খরায় কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি করলেও বর্তমানের বৃষ্টিপাতের ফলে পুকুরগুলোর মাছের প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তিনিও ব্র্যাক ফিশারিজের কথা উল্লেখ।
মৌলভীবাজার মৎস্য বিভাগে যোগাযোগ করে জানা গেছে, জেলায় মাছচাষি প্রায় ১৩ হাজার ৪শ জন। বেসরকারি মৎস্য হ্যাচারির সংখ্যা ছয়টি। যা ১৪০ হেক্টর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। আর বাণিজ্যিক মৎস্য খামার রয়েছে প্রায় ২৮০টি। যেগুলো ১৫শত ৭৭ হেক্টর জায়গায় তাদের সফলতা ছড়াচ্ছে। এ জেলায় বাৎসরিক মৎস্য উৎপাদন ৪২ হাজার ৯ ৩২ মেট্রিক টন।
বিপণন কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, আমাদের ফিশারিজে রেনু এবং পোনা উৎপাদন করে বিক্রি করা হয়। রেনু প্রতি সপ্তাহের সোমবার বিক্রি হয়। আর পোনা প্রতিদিন বিক্রি হয়ে থাকে। রেনুর মধ্যে রয়েছে কমনকার্প, মিররকার্প, রুই, কতলা, মৃগেল, কালিবাউশ, পাঙ্গাস, ঘনিয়া, সিলভার, বিগেট এবং স্বরপুটি। আর পোনার মধ্যে রয়েছে শুধু মনোসেক্স তেলাপিয়ার পোনা। মনোসেক্স তেলাপিয়া অল্প সময়ে দ্রুত বাজারজাতকরণ সম্ভব হয় বলে তুলনামূলকভাবে এর চাহিদা বেশি। বিভিন্ন জেলার মাছখামারিরা আমাদের কাজ থেকে এই পোনা সংগ্রহ করে থাকেন বেশি।
ব্যবস্থাপক ফরিদুল ইসলাম জানান, আমাদের রেনু-পোনার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। যশোর, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে আমাদের রেনু-পোনা। ২০২০ সালে প্রায় ২৫শত কেজি রেনু, সব ধরনের কার্প এবং ক্যাটফিস প্রত্যক্ষভাবে ৪ হাজার মাছখামারি মধ্যে এবং পরোক্ষভাবে ১০ হাজার বেশি খামারিকে রেনু দিয়ে আমরা সহায়তা করেছি।
সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফারাজুল কবির বলেন, সবচেয়ে বড় কথা আমাদের মৌলভীবাজার জেলায় উৎপাদিত রেনু পোনা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জলাভূমিতে পৌঁছেছে। যা মৎস্য বিভাগের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। জেলার একাধিক হ্যাচারি মাঝে ব্র্যাক ফিশারিজ অন্যতম। মৎস্যখামারি, মৎস্য আড়তদার, মাছ বিক্রেতা-ক্রেতা ওই ৪ গোষ্ঠীর মাঝেমধ্যে চমৎকার একটি নির্ভরশীল ভারসাম্য তৈরি করে রেখেছেন তারা।