৫ জুন ২০২১
কানাইঘাট প্রতিনিধি : সীমান্তবর্তী কানাইঘাটের লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে পাথর উত্তোলন দীর্ঘদিন দিন বন্ধ রয়েছে। তদুপরি লীজ বর্হিভূতভাবে পরিবেশ বিধ্বংসী কয়েকটি বোমা মেশিন দিয়ে রাতের আঁধারে পাথর উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পাথর উত্তোলন বন্ধ হওয়া লোভাছড়া পাথর কোয়ারীর মারাত্মক ভাঙ্গন কবলিত তেরহালী নামক স্থান থেকে গত কয়েকদিন থেকে কয়েকটি বোমা মেশিন দিয়ে রাত ১২ টার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের কয়েক হাজার ঘন ফুট পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।
৩/৪দিন পূর্বে আমরি খালের পাশে কোয়ারীর লোভা নাদী থেকে রাতের বেলা বোমা মেশিন দিয়ে কোয়ারীর নিয়ন্ত্রনকারী বেশ কয়েকজন কোটিপতি পাথরখেকো অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন শুরু করলে স্থানীয়রা তাদের বাধা দেন।
পরে বোমা মেশিনগুলো নিয়ে পাথরখেকোরা কোয়ারীর তেরহালী এলাকায় নিয়ে রাখে।
এরপর গত ৩ থেকে ৪ দিন কয়েকটি বোমা মেশিন দিয়ে রাতের বেলা কোয়ারীরর তেরহালী এলাকা থেকে পাথর উত্তোলন করে এর সাথে জড়িতরা।
সব শেষ গত সোমবার রাত ১২টার পর তেরহালী এলাকা থেকে বোমা মেশিনের সাহায্যে পাথর উত্তোলনের পায়তারা করার সময় লোভাছড়া চা বাগানের সত্যাধিকারী লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান জেমস লিও ফারগুশন নানকা সহ চা বাগানের শ্রমিক ও আশপাশ এলাকার লোকজন সেখানে জড় হন। এক পর্যায়ে বিষয়টি জেনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জি এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লোভাছড়া বিজিপি ক্যাম্পের কর্মকর্তারা ও থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। বিজিবি সদস্যরা দ্রুত সেখানে গেলে তেরহালী এলাকা গেলে বোমা মেশিন লোভা নদীতে রেখে পাথরখেকোরা চলে যায়।
এ ছাড়া বোম মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ প্রেরণ করেন থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম পিপিএম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পাথর ব্যবসায়া জানিয়েছেন- কোয়ারী বন্ধ থাকার পরও কিভাবে বোমা মেশিন কোয়ারীতে এলো এবং এখন পর্যন্ত লোভা কোয়ারীতে বোমা মেশিন রাখার পরও জব্দ করা হচ্ছেনা যা অত্যন্ত রহস্যজনক।
কারা বোমা মেশিন দিয়ে কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলন করতে চায় এসব ব্যবসায়ীদের প্রশাসনের লোকজন চিনেন কিন্তু বার বার তারা ছাড় পেয়ে যায়।
সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এমরান হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোয়ারীতে পরিবেশ ধ্বংসকারী বোমা মেশিন যাতে করে চলতে না পারে এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিবেন বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জির সাথে এ নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, লোভাছড়া পাথর কোয়ারীর লীজ বন্ধ রয়েছে। বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের চেষ্টায় সংবাদ পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে লোভাছড়া বিজিবি ক্যাম্পের কর্মকর্তা ও থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলামকে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন।
কোয়ারী থেকে কেউ বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের পায়রতারা করলে কঠোর আইনানু ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং কোয়ারী থেকে লীজ বর্হিভূত পাথর উত্তোলন ও পরিবহন কেউ করতে পারবে না।