১০ নভেম্বর ২০১৭


শাবি এলাকায় বেপরোয়া ছিনতাইকারী চক্র

শেয়ার করুন

শাবি প্রতিনিধি : হঠাৎ ছিনতাইকারীদের আক্রমণে বেকায়দায় পড়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশের। শাবি শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে নগরের একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত এক মাসে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীদের হামলায় মোবাইল, নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকা, মিরের ময়দান, হাউজিং স্টেট, মদিনা মার্কেট, সুবিদ বাজার, পাঠানটুলা, তেমুখিসহ বিভিন্ন জায়গাগুলোতে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। অভিনব কায়দায় এসব ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। আর প্রায় সবগুলিই ঘটছে অটোরিকশা সিএনজিতে। অটোরিকশার পিছনে বসা যাত্রীদের দুই পাশে বসে, অস্ত্র ঠেকিয়ে শিক্ষার্থীদের সবকিছু ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে। ধারাবাহিক ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থীরা। গত ৬ নভেম্বর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেন। এসময় সিএনজি চালক ও পরিবহন শ্রমিকরা হামলা চালালে শিক্ষক, পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়।

কিন্তু ঘটনার পরপরই ওইদিন দুপুরেই ফের ছিনতাইয়ের শিকার হয় নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগ তুলে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব প্রশাসন ও পুলিশ। কিছু অসাধু অটোরিকশা চালকদের যোগসাজশে এসব ঘটনা ঘটছে বলে আক্রান্তদের অভিযোগ। কিন্তু পুলিশ উল্লেখযোগ্য কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি, তবে টহল বৃদ্ধি করেছে।

ইতোমধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় গণিত বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম, অধ্যাপক মস্তাবুর রহমান, প্রক্টর জহির উদ্দীন আহমেদ প্রমুখ।

এছাড়া হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে বুধবার জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ৩০ অক্টোবর এসএমপি কমিশনার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে আফজাল হোসাইন (সমাজকর্ম বিভাগ), জুনায়েদ আহমেদ (তড়িৎ প্রকৌশল), তাহমিদুর রহমান চৌধুরী (অর্থনীতি), জুবায়ের সিদ্দিকী (পিএমই), মাসুদ রাহাত (কেমিক্যাল), আকাশ কর্মকার (স্থাপত্য), জাহিদুল আলম ভূঁইয়া (এফইটি), সাফায়েত ইসলামসহ (পদার্থবিজ্ঞান) অনেকেই আক্রান্ত হোন।
এছাড়া ৫ নভেম্বর বর্ডারগার্ড এলাকায় লোকপ্রশাসন বিভাগের আতিকুর রহমান এবং সাবিহা সাইমন পুষ্পা ছিনতাইয়ের শিকার হন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরের যেকোন স্থানে যাতায়াত পথে অটোরিকশা চালকরা ছিনতাই চক্রের সাথে যোগসাজশ করে একের পর এক ছিনতাই করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে চালকরা নিদিষ্ট গন্তব্যে না-নামিয়ে দূরবর্তী অন্ধকার স্থানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গিয়ে তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র, বিশেষ করে মোবাইল এবং টাকা-পয়সা নিয়ে অটোরিক্শা থেকে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে।

আগামী ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা থাকায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা ছিনতাইকারীদের টার্গেটে পরিনত হতে পারে। এখনই কোন পদক্ষেপ না নিলে ছিনতাই নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যেতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এসএমপির জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান- “মামলা হয়েছে। আমরা এলোমেলোভাবে কাউকে ধরতে চাচ্ছি না। যেহেতু অপরাধীরা এখন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, তাই আমরা মূল অপরাধীদের ধরতে কাজ করে যাচ্ছি।”

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন- আমি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপির সাথে কথা বলেছি। প্রতিটা পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে রাস্তার দুই পাশেই চেক করা হচ্ছে। অপরাধীদের ছাড় দেয়া হবে না। শিক্ষার্থীরা টিউশনি করে চলে, তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন- শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, আমাদের অনেক শিক্ষকও ছিনতাইকারীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। সিএনজিতে উঠার সময় শিক্ষার্থীরা যাতে গাড়ির নাম্বর সংগ্রহ করেন, সেই পরামর্শ দেন উপাচার্য।

 

(আজকের সিলেট/১০ নভেম্বর/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন