৩০ মে ২০২১


দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলছে না প্রতিবন্ধী ভাতা

শেয়ার করুন

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীনগর প্রতিবন্ধী নাতিকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন নুর মিয়া নামের এক বৃদ্ধ। অসহায় অবস্থায় বার বার স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েও পাচ্ছেন না কোনো সহায়তা। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে মানুষের সাহায্য কামনা করেছেন তিনি।

জানা যায়, রানীনগর গ্রামের নুর মিয়ার মেয়ে সাফিয়া বেগমকে নেত্রকোনার জেলার রুকন মিয়ার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিয়ের পর স্বামী ও স্ত্রীর সুখেই দিন কাটছিল। তাদের সংসারে এক ছেলে জন্মগ্রহণ করে। সেই ছেলের বয়স ৩ বছর হওয়ার পর তারা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় প্রতিবন্ধিতার লক্ষণ। এ নিয়ে দ্বন্দ্বে শিশুটির বাবা-মায়ের মধ্যে তৈরি হয় দূরত্ব।

সংসার ভাঙার সাফিয়া বেগম তার বাবার বাড়িতে চলে যান। অসহায় নুর মিয়া নাতিকে সুস্থ করতে বিভিন্ন স্থানে ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা করান। সহায়-সম্বল বিক্রি করলেও শেষ পর্যন্ত নাতিকে সুস্থ করে তুলতে পারেননি তিনি। দরিদ্র পরিবারে নিয়মিত দু’মুঠো ভাত জোগাড় করতে পারেন না নুর মিয়া। এর মধ্যে নাতিকে চিকিৎসা করানো অসম্ভব কাজ হয়ে দাড়াঁয়। নুর মিয়া জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও পাচ্ছেন না সরকারি কোনো সহায়তা। এর মধ্যেই নাতিকে সুস্থ করতে চালিয়ে যাচ্ছেন সংগ্রাম।

বৃদ্ধ নুর মিয়া বলেন, আমার মেয়েকে বড় আশা করে বিয়ে দিয়েছিলাম। মেয়ের ঘরে একটি ছেলে সন্তানও জন্মগ্রহণ করেছিল। কিন্তু সে প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছেলের বাবা ও তার পরিবার প্রায় ৫ বছর ধরে আমার মেয়ে আর নাতির কোনো খোঁজ-খবর নিচ্ছে না। নাতিকে চিকিৎসা করাতে তার বাবা এগিয়ে আসছে না। আমি অসহায় হয়ে আমাদের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু আমাকে কেউই সাহায্য করেননি।

রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম রানা বলেন, ওই ব্যক্তির একটি প্রতিবন্ধী নাতি রয়েছে। তিনি আমার কাছে এসেছিলেন। আমি বলেছি পরে যোগাযোগ করতে। প্রতিবন্ধী তালিকা করার সুযোগ এলে ওই শিশুর নাম দেওয়া হবে। আমরা চেষ্টা করছি তার জন্য কিছু করার।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিলাল হোসেন বলেন, আমাদের কাছে তিনি কোনো আবেদন করেননি। আবেদন করলে আমরা প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে দিতাম।

শেয়ার করুন