২৮ মে ২০২১
ডেস্ক রিপোর্ট : হযরত শাহজালাল (র.), হযরত শাহ পরান (র.) ও শ্রী চৈতেন্য দেবের পূণ্যভূমি আধ্যাতির রাজধানী পবিত্র নগরী সিলেট। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে এই পবিত্র নগরীতে চালু রয়েছে আবাসিক হোটেলের নামে বেশ কিছু অঘোষিত নিষিদ্ধপল্লী। দিন দিন এই আবাসিক হোটেলগুলোতে অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়েই চলেছে। পুলিশের তৎপরতা মাঝে মাঝে চোখে পড়লেও তাকে স্রেফ আইওয়াশ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, যেসব হোটেলে এ ধরণের কর্মকান্ড চলছে, তাদের মালিক বা ম্যানেজাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। তাদের আইনের আওতায় নেয়া না হলে এ অপতৎপরা হ্রাস পাবেনা।
গত কয়েকদিনে মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষকে আটক করেছে সিলেট মহানগরের কোতোয়ালী থানা পুলিশ। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব অভিযানে হোটেল মালিক বা ম্যানেজারদের কেউ আটক হয়নি।
সিলেট মহানগরীর আবাসিক হোটেলগুলোর বেশির ভাগের অবস্থানই কোতোয়ালি মডেল থানায়। এরমধ্যে নরককুন্ড হিসাবে পরিচিত সুরমা মার্কেটও আছে। এই মার্কেটে বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল থাকলেও সেগুলো পরিচিত মিনি পতিতালয় হিসাবে। এর প্রায় সবগুলোতেই চলে অসামাজিক কার্যকলাপ। এমন কি মদ বা জুয়ার আসরও বসে নিয়মিত।
গত ২৪ মে এ মার্কেটের বদরুর রেস্ট হাউজে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কাজের অভিযোগে ১ পুরুষ ও ২ নারীকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। আটক পুরুষটি রেস্ট হাউজের বোর্ডার ছিলেন বলে জানা গেছে।
একদিন বিরতির পর একই মার্কেটের হোটেল নিউ সুরমায় অভিযান চালিয়ে ২ নারী ও ৫ জন পুরুষকে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন হোটেল বয় থাকলেও হোটেলের মালিক বা ম্যানেজারদের কাউকে আটক করা হয়নি।
এর আগে, গত ২৩ মে নগরীর কালিঘাট এলাকার বন্ধু নামক একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ২ নারী ও ১ পুরুষকে আটক করেছে পুলিশ। পুরুষটি ছিলেন হোটেলের বোর্ডার।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দেহ ব্যবসায়ী নারীদের সংগ্রহ করে এনে রাখা হয় এসব হোটেলে। তারপর হোটেলে আসা বোর্ডার বা খদ্দেরদের চাহিদা মতো সরবরাহ করে কামিয়ে নেয়া হচ্ছে কাড়ি কাড়ি টাকা। এই ব্যবসার সাথে হোটেলগুলোর মালিক ও ম্যানেজাররাও জড়িত। ব্যবসায় লাভের প্রধান অংশটা যায় তাদের পকেটে। আর তাই তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে না পারলে এ জঘন্য ব্যবসা বা প্রবণতা হ্রাস করা যাবেনা।
কিন্তু তা হয়না। তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। কিন্তু সেটা কেন হবে? পুলিশ কেন তাদের গ্রেফতার বা আটক করেনা- এমন প্রশ্নের জাবাবে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার ( গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, অভিযানের সময় যাদের পাওয়া যায়, তাদেরকেই ধরে এনে কোর্টে চালান দেয়া হয়।