২৬ মে ২০২১
ডেস্ক রিপোর্ট : নির্বাচন সিলেট-৩ আসনে। অথচ আলোচনায় অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান । সম্প্রতি এই্ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমানকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে চেয়েছেন। এনিয়ে তার পক্ষে বিপক্ষে এখন তুমুল আলোচনা সমালোচনা চলছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ছাড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তিনি।
গত ২২ মে সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকট লুৎফুর রহমান দক্ষিণ সুরমায় এক স্বাস্থ্য-সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তব্যে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবকে মনোনয়ন দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে এখন চলছে তুমুল আলোচনা সমালোচনা। এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা সমালোচনায় মুখর। তারা বলছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে তিনি এমন বক্তব্য দিতে পারেন না। প্রকাশ্যে কারো পক্ষে তার অবস্থান নেয়া অনুচিৎ। এমনকি এটাকে গঠনতন্ত্র বিরোধী বলেও মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।
এই সমালোচকদের তালিকায় আছেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির উদ্দিন, জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ শমশের জামাল, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মোহাম্মদ আবু জাহিদ, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এডভোকেট বদরুল ইসলাম, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুল, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সিলেট জেলা দায়রা জজ আদালতের পিপি নিজাম উদ্দিন প্রমুখ। তাদের সবার বক্তব্যের সারমর্ম হচ্ছ, অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমানের এমন অবস্থান বা ঘোষণা কিছুতেই মেনা নেয়া যায়নি।
একজন অভিভাবক হিসাবে যেমন তিনি কোন পক্ষ অবলম্বন করতে পরেন না, তেমিন এটি দলীয় গঠনতন্ত্র বিরোধীও।
এদিকে প্রবল আলোচনা সমালোচনার মুখে অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান পরে আবার কৌশলী বক্তব্যও দিয়েছেন। তিনি সর্বশেষ গত ২৪ মে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের লাইভে এসে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দিবেন তিনি তার পক্ষেই কাজ করবেন। তবে তার এমন বক্তব্যেও সন্তুষ্ট নয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, মনোনয়ন প্রত্যাশী ও তাদের অনুসারীরা। তাদের মতে, একজন বয়োজ্যেষ্ট নেতা হিসাবে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা মোটেও উচিৎ হয়নি। তবে এখনো তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহারের ঘোষণাও দেন নি। তার এমন অবস্থান, আওয়ামী লীগের জন্য খারাপ ফলাফল বয়ে আনতে পারে। দলীয় শৃঙখলা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তাই অবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহার জরুরী।
তবে অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান তার বক্তব্যে প্রত্যাহার না করে সুকৌশলে রাজনৈতিক নেতাদের মত তার মতামত পুনরায় ব্যাক্ত করেছেন।