২২ মে ২০২১


বিতর্কিত নার্স হালিমা কে কোম্পানীগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার

শেয়ার করুন

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া : সিলেট  কম্পানীগঞ্জে যোগদানের পর থেকে কর্মস্থলে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে কর্মস্থলে নানা কারণে বিতর্কিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স এর  মিডওয়াইফ নার্স হালিমা। তার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেশ কিছু সংবাদও প্রকাশ হয়। এতে তার বিতর্কিত কর্মকান্ড চোখে পড়ে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের। সেই বিতর্কিত নার্স কে অবশেষে প্রত্যাহার করে নিয়েছে কতৃপক্ষ। বেপরোয়া নার্স হালিমা শুধু সাধারণ মানুষ নয় সাংবাদিকদের সাথেও অসৌজন্য মূলক আচরণ করে। যা ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বৃহস্পতিবার তাকে কোম্পানীগঞ্জ থেকে অপসারণ করে বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

হালিমার পিতৃনিবাস সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের জুগিরগাঁও গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত হরমুজ আলীর মেয়ে। তার স্বামীর বাড়ি সিলেটের আখালিটুকের বাজারে।

জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের দিন স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে মাস্ক পরিধান না করে দায়িত্ব পালন, রোগীর স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়া এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে ‘করোনাভিলেন’ নার্স হালিমাকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং তাদের স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার চালিয়ে আসছিলেন নার্স হালিমা বেগম। গত শুক্রবার ঈদুল ফিতরের দিন বিকাল সাড়ে ৫টায় এক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ১৫ দিন বয়সী শিশু রোগীকে ডিসচার্জ করার ব্যাপারে কথা বলতে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষে যান স্থানীয় এক যুবক। কোনো চিকিৎসক না থাকলেও সেখানে বসা ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিডওয়াইফ নার্স হালিমা বেগম। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মাস্ক পরিধান না করেই হাসপাতালের স্টাফদের সঙ্গে খোশগল্পে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। এ সময় রোগীর স্বজন ওই যুবক হালিমাকে মাস্ক পরিধানের জন্য অনুরোধ করলে উত্তেজিত হয়ে ধম্বকত্বি করেন, ‘আমি মাস্ক পরব না, কী সমস্যা? আমি মাস্ক পরব কী পরব না, সেটা বলার তুই কে?’

এ সময় সকিনা বেগম নামে হাসপাতালের এক স্টাফ বারবার হালিমাকে চুপ করার জন্য অনুরোধ জানালেও তা কানে নেননি ওই নার্স।

খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। হালিমা এ সময় সংবাদকর্মীদের ওপর হামলে পড়েন। স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন নার্স হালিমা বেগম।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন প্রভাকর রায় নামে এক চিকিৎসক। তিনিও ঘটনাটি জেনে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন!

হাসপাতালে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, নার্স হালিমা বরাবরই তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছেন। এমনকি করোনা মহামারীর এ সময়ে মাস্ক পরিধান না করে ডিউটি পালন করে নিজেকে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের হুমকির মুখে ফেলছেন ওই নার্স।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২০ সাল থেকে করোনা টেস্ট শুরু হয় এবং বর্তমানেও তা চলমান রয়েছে। চলতি বছরে শুরু হয় ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমও। সেই দৃষ্টিতে করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে হাসপাতালটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক বলেন, হালিমা মেয়েটা আসলেই বেয়াদব। তার বিরুদ্ধে অনেক লিখিত অভিযোগও হাসপাতালে এসেছে। এর আগেও সে রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং এক সহকর্মীর গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।

বিতর্কিত নার্সকে বিশ্বনাথে  বদলি করা হলেও তার বিরুদ্ধে সংবাদ পত্রে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে নিশ্চিত করেন সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল। আপাতত তাকে শোকজ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এব্যাপারে অভিযুক্ত নার্স হালিমার সাথে বৃহস্পতিবার রাতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে কর্তব্যরত অবস্থায়    মাস্ক না পরার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রশ্ন করেন ‘আমি কি একটু সময় মাস্ক খোলে বসতে পারি না?’ এছাড়া সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচরণের বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।

শেয়ার করুন