১৮ মে ২০২১
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : জগন্নাথপুর- বিশ্বনাথ- রশিদপুর সড়কের জগন্নাথপুর উপজেলা অংশে সংস্কার কাজ শেষ হতে না হতেই ভাঙ্গন দেখা দেওয়ার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় উপজেলাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সড়কের নিম্নমানের কাজ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল। ব্লক থেকে পাকা সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
এক মিনিট ৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে উপজেলার বাসিন্দা মাসুম হোসাইন উল্লেখ করেন, সড়কের ভবেরবাজার থেকে মুচি বাড়ি পর্যন্ত অংশে কাজ শেষ হওয়ার এক মাস হতে না হতেই এমন ভাঙ্গন । এরপর থেকে বিভিন্নজনের ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিও ও ভাঙ্গন দৃশ্যের ছবি ভাইরাল হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, সড়কের সংস্কার কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমির হোসেনসহ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে সড়কে নিম্নমানের কাজ করে আমাদেরকে বিব্রতকর ও লজ্জায় ফেলেছেন। আমরা দুদকের মাধ্যমে তদন্তপূর্বক ঠিকাদার ও এলজিইডির তদারকির দায়িত্বে থাকা আমির হোসেনদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
মুজিব আরও বলেন, সড়ক সংস্কারের জন্য দুই থেকে তিন কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ কখনো মিলেনি। টেকসই কাজের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন এরপরও এমন লুটপাট মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। জগন্নাথপুর উপজেলা পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খেজর মিয়া বলেন, সড়কে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে এ বিষয়ে একাধিকবার এলজিইডিতে অভিযোগ করলেও আমাদের কথা কেউ শুনেনি। সড়কের কাজ শেষ পর্যায়ে চলে আসলে আমরা আটটি স্পটে ভাঙ্গনের চিত্র উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করি। কোন কাজ হয়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে সড়কের বেহাল দশা দেখা দিলে সড়কের জগন্নাথপুর উপজেলা অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। মাদারীপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামীম সালেহ (জেভি) এতে অংশ নেয়। এ সময় দ্রুত সড়কের কাজ বাস্তবায়ন করতে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত দরে ২৫ কোটি টাকায় তাদেরকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। সে অনুযায়ী ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুযারি থেকে সড়কে কাজ শুরু করে চলতি বছরের ৩১ মার্চ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কাজ শেষ হয় ঈদের এক সপ্তাহ আগে। ১৯ মে সড়কের জগন্নাথপুর উপজেলা অংশের শেষ হওয়া কাজ উদ্বোধন করার কথা ছিল পরিকল্পনামন্ত্রীর। লকডাউন বাড়ায় এ কর্মসূচি স্থগিত রয়েছে।
অপর দিকে, বিশ্বনাথ অংশের ১৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার অংশে সাড়ে ২৩ কোটি টাকা বরাদ্দে কাজ পায় শাওন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে কাজ শুরু করে ২০২১ সালের ৩১ মে কাজ শেষ করার কথা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত অংশ সরেজমিনে দেখে ঠিকাদারকে ভাঙ্গন অংশ সংস্কার করতে বলা হয়েছে। কাজে কোন অনিয়ম হয়নি।