১১ মে ২০২১
ডেস্ক রিপোর্ট : চারদিকে করোনার চোখ রাঙানি। দিনদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দ্বিতীয় ধাপে করোনা ছোবল বসিয়েছে সিলেটেও। সেই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়াতে ভারতের করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে করোনা থেকে সুরক্ষায় সরকার দফায় দফায় লকডাউন দেয়। আগামি ১৬ মে পর্যন্ত সেই লকডাউন চলমান থাকলেও নগরীতে চলছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরগরম ঈদবাজার।
মার্কেট-বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাত বাজার সবখানে ক্রেতা সমাগম। করোনা মহামারি থেকে সুরক্ষার বদলে ছেলে-বুড়ো সবাই বেরিয়েছেন ঈদের কেনাকাটায়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সিলেটের বাজারে ঈদের কেনাকাটার ধুম পড়েছে।
ঈদ উপলক্ষে বিপণিবিতান মার্কেটগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার কথা থাকলেও রাতভর চলে কেনাকাটা। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসন থেকে সতর্কবার্তা জারি করা হলেও নিয়মের বালাই নেই কোথাও।
সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিটি মার্কেটে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। ঘেষাঘেষি করে চলছেন লোকজন। পরিবারের কর্তাব্যক্তি মুখে মাস্ক পরে থাকলেও মাস্কহীন অবস্থায় শিশু নিয়ে ঘুরছেন। কারও মাস্ক ঝুলানো থুঁতনিতে। মার্কেটগুলোতে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখার কথা থাকলেও অধিকাংশ মার্কেটে তা অনুপস্থিত।
আর ঈদবাজারে সড়কে যানজট! সেতো অস্বাভাবিক নয়? নগরের বিভিন্ন সড়কে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকে নাকানি চুবানি খেতেই হচ্ছে। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত শপিং মল, সব জায়গাতেই লোকে লোকরণ্য।
দোকানিরা বলেন, চাকরিজীবীরা ঈদের বেতন-বোনাস পাওয়ায় ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে গেছে।
তবে সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই কোথাও। এ কারণে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, মানুষের জীবনের চেয়ে ঈদের চাহিদা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। একবার ঈদ না করলে কি হয়। বাঁচলে ঈদ অনেক মিলবে। কিন্তু এখন যে অবস্থা তাতে আক্রান্তের হার বেড়ে যেতে পারে। আর ভারতের করোনার ভেরিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়লে তা হবে ভয়াবহ।
সিলেট নগরীর উপশহরের বাসিন্দা তাহিয়া চৌধুরী বলেন, ঈদে এবার পোশাকের দাম অনেক বেড়েছে। আর চাহিদা মতো তেমন পোশাক মার্কেটে নেই। ব্যবসায়ীরা নতুন পোশাক এবার কম নিয়ে এসেছেন। তবে বিক্রেতারা সেটি মানতে নারাজ। তাদের মতে, দাম আগের চেয়ে কিছুটা কম।
ঈদের কেনাকাটায় সিলেটে সবচেয়ে বেশি ভিড় লেগে আছে শুকরিয়া মার্কেটে। গজ কাপড়ের জন্য ক্রেতারা শুকরিয়া মার্কেট, চাঁদনী চক ও এলাকার মার্কেটগুলোতে আসছেন।
শুকরিয়া মার্কেটের কালারস এর ব্যবসায়ী হাসান আহমদ বলেন, তরুণীদের পছন্দ এবার সারারা, গাউন, লম্বা স্কার্ট, লম্বা কামিজ ভালো চলছে। গাউনের মধ্যে ফ্লোর টাচ বা পায়ের পাতা ছোঁয়া গাউনের চাহিদা বেশি। কেউ কেউ লম্বা গাউনের সঙ্গে বাহারি ওড়নাও প্লাজ্জু পছন্দ করছেন। এছাড়া সুঁতি কাপড়ের শাড়ির চাহিদা রয়েছে বেশি। এরমধ্যে বেনারসি, জর্জেট, কাতান, সিল্ক, শার্টিন ও জুট কাতানের বিক্রিও ভালো।